Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net

পুলিশি তদন্তে উন্মোচিত হোক প্রকৃত চিত্র

ধর্ষণ করেছে বললেই যেমন অভিযুক্ত দোষী হয়ে যায় না, তেমনই ধর্ষণ করেনি বললেও তাকে নিরাপরাধী ভাবার কোনো কারণ নেই। মূলত এ কারণেই পুলিশের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত আশা করা হয়। তদন্তে গড়িমসি বা পক্ষপাতিত্ব ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অন্তরায়। আর এর কুফল সমাজকেই ভোগ করতে হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের বেগমপুর ইউনিয়নের কোটালী দর্শনাপাড়ার এক গৃহবধূ তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন, অভিযুক্তের স্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে ওই অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি তুলে বলেছেন, সু-বিচার চাই। অবশ্যই ন্যায় বিচার কাম্য। আর সেটা নিশ্চিত করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন তদন্তকর্তার ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কর্তব্যপরায়ণতা।
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপন যে একেবারে হয় না, হচ্ছে না তা নয়। ফাঁসানোর হরেক রকম চক্রান্তের চিত্রও মাঝে মাঝে পুলিশের বিচক্ষণতায় প্রকাশ পায়। পত্রস্থও হয়। তারপরও যে প্রতিপক্ষবে ফাঁসানোর চক্রান্ত সমাজ থেকে উচ্ছেদ হয়েছে তা যখন নয়, তখন যে কারোরই অভিযোগ উত্থাপন মানেই তা সত্যি বলে ধরে নেয়া উচিত নয়। আবার কোনো অভিযোগকেই অবজ্ঞ করার মধ্যে শুভবুদ্ধির পরিচয় মেলে না। কোটালী দর্শনাপাড়ার যে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তিনি দরিদ্র স্বামীর স্ত্রী। ওই অভিযোগকারীনির সাথে অভিযুক্তের পূর্ববিরোধ রয়েছে বলেও তাদের দাবি। সেই বিরোধের জেরে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে মামলা? হয়তো হ্যা, হয়তো না। অভিযোগকারীনির অভিযোগ শুনে তার পাশে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের বেশ ক’জন সদস্য পাশে দাঁড়িয়েছেন। যদিও কারোর মুখের কথা শুনেই সহানুভূতি জানানো অমূলক না হলেও আইনগত সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতির আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ন্যূনতম অনুসন্ধান আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়। কেননা, মানবাধিকার শুধু অভিযোগকারীর ক্ষেত্রেই নয়, মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্তের বেলায়ও বিবেচ্য। অবশ্য ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে বিলম্ব আলামত হরানোর ভয় থাকে। সেক্ষেত্রে পুলিশকে দ্রুত মামলা নেয়াটা বিধেয় হলেও মানবাধিকার কর্মীদের বেলায় কিছুটা বিলম্বে হাঁটা অতোটা দোষের কিছু নয় নিশ্চয়। আর যদি এগিয়ে থাকার অঘোষিত প্রতিযোগিতা থাকে তাহলে দ্রুত স্বল্প সময়ের মধ্যেও ওটা করা সম্ভব। কোটালী দর্শনাপাড়ার দরিদ্র পরিবারের গৃহবধূর পাশে দাঁড়ানো মানবাধিকার কর্মীরা নিশ্চয় ন্যূনতম যাচাই করেই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে বিশ্বাস।
অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে, পুলিশ মামলা নিয়েছে। এটাই বিধান। এখন আইনের দৃষ্টিতে যথাযথ তদন্তপূর্বক উপযুক্ত পদক্ষেপ অবশ্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। অপরাধ না করে কেউ হয়রানির শিকার হলে তার যেমন কুপ্রভাব পড়ে সমাজে, তেমনই অপরাধ করে কেউ পার পেলে তারও খেসরাত সমাজকেই দিতে হয়। সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আইন, আইন প্রয়োগের প্রদ্ধতি প্রণয়ন। ত্রুটি বিচ্যুতি বর্জন করে তদন্তকর্তার বিবেক জাগ্রত রাখতে পারলে অবশ্যই প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন সম্ভব। শুধু কোটালী দর্শনাপাড়ার ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে নয়, আইন প্রয়োগের সকল ক্ষেত্রেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো বিচক্ষণ তদন্তকর্তার কর্তব্যপরায়ণতা কাম্য।


আরো দেখুন

অনন্তকাল হৃদয়ে থাকবেন বঙ্গবন্ধু

  জাতি আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১৯৭৫ সালের …

Loading Facebook Comments ...