গাংনীতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে যুবকের পরকীয়া ধাপাচাপা

 

গাংনী প্রতিনিধি: মেহেরপুর গাংনী উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে আটক নৌ সদস্য কাজল হোসেনকে গতকাল রোববার তার ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় পরকীয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে গৃহবধূকে ছাড়িয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী সোনা মিয়ার স্ত্রী নীলা খাতুন ও কাজলকে মধ্যরাতে পুলিশ আটক করে থানা হেফাজতে রাখে। গতকাল সকালে উভয় পরিবারের লোকজনসহ দুই গ্রামের বেশ কিছু মানুষসহ থানায় গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যস্থাতায় পরকীয়া ও আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার বিষয়টি বানোয়াট বলে প্রচার করা হয়। এক পর্যায়ে তেুঁতুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যস্থাতায় বিষয়টি মীমাংসায় গড়ায়। অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ধামাচাপা দেয় উভয়পক্ষ। এ কারণে নীলা খাতুন থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ কিংবা মামলা করেননি। পরিবারের জিম্মায় পুলিশ তাকে মুক্তি দেয়। তবে নিয়মানুযায়ী সেলিমকে তার ইউনিট প্রধানের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। গতকালই নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রতিনিধিরা তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে নিয়ে গেছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন গাংনী থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) কাফরুজ্জামান। তিনি বলেন, কোনো পক্ষ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। তাই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে ল্যান্স করপোরাল সেলিমের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি মিথ্যা দাবি করেছেন প্রবাসীর স্ত্রী নীলা খাতুন। গতকাল রোববার গাংনী থানা হাজতে তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার স্বামীর পরিবারের কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসিয়েছে। রাতে সেলিম তার কক্ষে ভাত খাওয়ার সময় বাইরে থেকে তারা দরজা বন্ধ করে অপবাদ দেয়। তাদের মধ্যে কোনো পরকীয়া কিংবা অবৈধ সম্পর্ক নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই নীলার বাড়িতে যাওয়া-আসা সেলিমের। তাদের মধ্যে কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তাহলে এতো রাতে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে ওই যুবক কি কারণে গিয়েছিলেন?

প্রসঙ্গত, কুলবাড়ীয়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী সোনা মিয়ার স্ত্রী তিন সন্তানের জননী নীলা খাতুন (৪০) ও পার্শ্ববর্তী হিন্দা গ্রামের আবু সিদ্দিকির ছেলে নৌবাহিনীর ল্যান্স করপোরাল কাজল হোসেনকে (২৬) গত শনিবার রাতে নীলর ঘরে মধ্যে আটকে রাখে প্রতিবেশীরা। পরকীয়ার জেরে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ দুজনকে থানা হেফাজতে নেয়।


আরো দেখুন

চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহে বিদ্যুত বিল দেয়াকে কেন্দ্র করে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারিকে বাটামপেটা

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহের মখলেছুর রহমানকে বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা …

Loading Facebook Comments ...