মঙ্গলবার , জানুয়ারি ১৬ , ২০১৮

চুয়াডাঙ্গার নেহালপুর ও গড়াইটুপিতে ৫ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি : প্রতিরোধের মুখে ডাকাতদলে বোমা বিস্ফোরণ : ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১

বেগমপুর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা সদরের নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাতভর সস্ত্র মুখোশধারী ডাকাতদল ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হামলা চালিয়েছে। ডাকাতেরা রাস্তায় গাছ ফেলে ছিনতাই এবং হিজলগাড়ি বাজার পাড়ায় ২ বাড়ির ও গড়াইটুপি গ্রামের ৩ বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা সোনার গয়নাগাটিসহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ছিনতাইকালে নেহালপুর গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালালে ডাকাতদল পর পর দুটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মোবাইলফোন দিতে দেরি করায় গড়াইটুপি গ্রামের তিনজনকে পিটিয়ে আহত করেছে। ডাকাতির মালামালসহ তিতুদহ ক্যাম্প পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে রাত পাহারার মধ্যেও ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাসূত্রে জানা গেছে, গতপরশু সোমবার সন্ধ্যারাত থেকেই আবহাওয়া খারাপ ছিলো। এ খারাপ আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হিজলগাড়ি-নেহালপুর সড়কের মধ্যবর্তী কালভার্টের নিকট রাস্তায় গাছ ফেলে ১৫-২০ জন মুখোশধারী ডাকাতদল একটি পোল্ট্রিফিড ভর্তি ট্রাকের (যশোর-ট-১১-০৬৩৫) গতিরোধ করে। এ সময় ডাকাত দল ট্রাকের চালক সরজগঞ্জ বাজারপাড়ার সোহরাফের ছেলে মোজাম্মেল হকের নিকট থেকে ১ হাজার ৯৭০ টাকা ও ১টি মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা ঝাঁজরি গ্রামের আফাজ উদ্দীনের ছেলে রুহুল আমিনের নিকট থেকে ৭ হাজার টাকা ২টি মোবাইলফোন, রাজুর নিকট থেকে ১টি মোবাইলফোন, হিজলগাড়ি নলবিলা গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে জসিমের নিকট থেকে ৮শ টাকা ১টি মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। বিষয়টি নেহালপুর গ্রামের রাত পাহারাদারা টের পেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালায়। অবস্থা বেগতিক বুঝে ডাকাতদল পরপর দুটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে পাহারাদাররা জানায়। ডাকাতদল ছিনতাইয়ের কাজ সেরে রাত ২টার দিকে হিজলগাড়ি মাঠপাড়ার রমজান মণ্ডলের ছেলে সবুর আলী ও তোফাজ্জেলের বাড়িতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ঢুকে বাড়ির সবাইকে ঘুম থেকে তুলে অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে ফেলে। ডাকাতেরা বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে সবুরের বাড়ি থেকে ১ জোড়া সোনার কানের দুল, ১টি মোবাইলফোন, তোফাজ্জেলের বাড়ি থেকে ২টি সোনারে চেন, ৪ জোড়া সোনার কানের দুল, ২টি সোনার চুরি, ২টি সোনার বালা, ১টি মাথার টায়রা, ১টি আংটি লুট করে নেয়।
অপরদিকে হিজলগাড়ি-নেহালপুর সড়কে যখন ডাকাতদল ছিনতাইয়ের তাণ্ডব চালাচ্ছিলো ঠিক সে সময় গড়াইটুপি ইউনিয়নের গড়াইটুপি মেলার মাঠ পাড়ায় সস্ত্র মুখোশধারী ডাকাতদল মোফাজ্জেলের ছেলে হায়দার আলী, আলম জোয়ার্দ্দারের ছেলে আহাদ আলী এবং বকুলের বাড়িতে ঢুকে বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ডাকাতদল হায়দার আলির বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, ৪টি মোবাইলসেট, ১টি সোনার চেন ১ জোড়া পায়ের নুপুর, ১টি সোনার নাকের আখড়া, আহাদ আলির বাড়ি থেকে ১ জোড়া রূপার নুপুর, কিছু নগদ টাকা, বকুলের বাড়ি থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা ১টি সোনার চেন, হাতের বালা, জোড়া সোনার কানের দুল এবং গবরগাড়া রাস্তায় ব্রিজ নির্মাণ শ্রমিকদের কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয়। এদিকে মোবাইল ফোন দিতে দেরি করায়  হায়দারের ছেলে হাবিবুর (২৫), রাজিবুল (১৬) ও আসাবুরের স্ত্রী হাজেরা বেগমকে (৩৫) বেধড়ক মারপিট করে ডাকাতেরা। প্রতিবেশীরা চিৎকার চেঁচামেচি করলে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। ডাকাতের কবলে পাড়া প্রত্যেকেই জানান, ডাকাত দলের অধিকাংশ সদস্যের মুখ বাঁধা, হাতে হেঁসো ও টর্চলাইট এবং কয়েকজনের নিকট ব্যাগ ছিলো। পৃথক পৃথক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় নগদ টাকাসহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নেয়।
খবর পেয়ে তিতুদহ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই লিটন গাজী ও টুআইসি এএসআই লিয়াকত আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদলকে ধরতে রাতভর ঝটিকা অভিযান চালান। ভোর ৫টার দিকে গবরগাড়া ব্রিজ নির্মাণের শ্রমিকদের ভাষ্যমতে বৃষ্টিভেজা কাদার রাস্তার পায়ের চিহ্ন ধরে গবরগাড়া গ্রামের ছিকিম ব্যাপারীর ছেলে দর্জি মনির হোসেনকে (২২) তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন। এ সময় মনিরের নিকট থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত শাবল, কাস্তে, হাতুড়ি, বাঁশের লাঠি, টর্চলাইট, পোশাক-আশাক এবং ডাকাতির ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির ডাকাতির কথা অকপটে স্বীকার করে জানায়, ডাকাতির সময় আমি তাদের সাথে ছিলাম, আমাকে গবরগাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সাথে নিয়ে যায়। বাকি সদস্যদের নামা ঠিকানা আমি জানিনা। গ্রেফতাকৃত মনির হোসেনকে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে মালামালসহ চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ গতকালই দুপুরের দিকে ছিনতাই ও ডাকাতির স্থান পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে তিতুদহ ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই লিটন হাজি বলেন, অপরাধীরা যতো শক্তিশালীই হোকনা কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদরের নেহালপুর, বেগমপুর, তিতুদহ ও নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাত পাহারার ব্যবস্থা করা হলেও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে সন্ধ্যা নামলেই এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।


আরো দেখুন

দেড় বছর কারাভোগের পর আপন ঠিকানায় ফিরলো দুই কিশোর

দর্শনা জয়নগর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত দর্শনা অফিস: ঠিক কবে যশোরের কোনো এক সীমান্ত …

Loading Facebook Comments ...