Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net

চিকুনগুনিয়ার দায় কার : প্রতিকারে পরাস্থ কর্তারাও

স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশে প্রথম উপস্থিতি জানান দেয়া ভাইরাস জ্বর চিকুনগুনিয়া কেন চলতি বছর ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লো, তার দায় নিতে রাজি নন কেউ মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ার কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক নেই। এ রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। চুয়াডাঙ্গায় মশা নিধনের তেমন উদ্যোগ নেই। অবশ্য মশার উপদ্রব বাড়লেও চুয়াডাঙ্গায় এখন পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত তেমন কোনো রোগী পাওয়া যায়নি দাবি চিকিৎসা বিভাগের। যদিও তীব্র জ্বরে আক্রান্ত দুজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে থেকে রেফার করা হয়েছে। এদুজনের মধ্যে পপি খাতুনের বাড়ি পাঁচকমলাপুরে। আর অন্যের বাড়ি দর্শনা মোবারকপাড়ায়। তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হলেও চিকুনগুনিয়া নয় বলেই মন্তব্য চিকিৎসকের।

আমাদের ঢাকা অফিস জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে ঢাকা সিটি করপোরেশন মশা মারতে ১১৬ কোটি টাকা খরচ করলেও ক্ষুদ্র ওই পতঙ্গের উপদ্রব না কমায় ভুক্তভোগীরা নগর কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগের অঙুল তুলেছেন। এমনকি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও ঢাকায় চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার জন্য দুই সিটি করপোরেশনকেই দায়ী করেছেন। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ মানতে রাজি নন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তাদের ভাষ্য, কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব যখন হয়, সম্মিলিতভাবেই তা প্রতিরোধ করতে হয়। এ রোগ নিয়ে অভিজ্ঞতা কম থাকায় প্রস্তুতির অভাবের বিষয়টি স্বীকার করেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র খোকন আগামী ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশার কথা শুনিয়েছেন। অন্যদিকে উত্তরের মেয়র আনিসুল হক দাবি করেছেন, ড্রেনের মশা নয়, ঘরে জন্ম নেওয়া এডিস মশার কারণেই এ রোগ ছড়াচ্ছে, যেখানে পৌঁছানো সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়।

আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় ১৯৫২ সালে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটার পর তা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এ রোগ দেখা দেয় ২০০৮ সালে, যার প্রকোপ চলতি বছর বর্ষা মওসুমের শুরু থেকে বেশি দেখা যাচ্ছে। ঢাকার ২৩টি এলাকাকে এ রোগের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকারের রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইইডিসিআর। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের কেন সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে না– তা জানতে চেয়ে হাই কোর্ট একটি রুল জারি করেছে।

চিকুনগুনিয়া বৃত্তান্ত>> তানজানিয়ার মাকোনডে ভাষায় চিকুনগুনিয়া অর্থ হল, যা বাঁকিয়ে ফেলে। শুরুটা জ্বর দিয়ে হলেও ‘হাড় বাঁকানো ব্যথাই’ বলে দেয় এ রোগ কতটা ভোগাতে পারে। চিকুনগুনিয়া হলে শরীরের গিটে গিটে ব্যথার পাশাপাশি মাথা কিংবা মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীরে ঠাণ্ডা অনুভূতি, চামড়ায় লালচে দানা ও বমি বমি ভাব হতে পারে। চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা না করে জ্বর হলে প্যারাসিটামল সেবন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সেই এডিস মশা>> চিকুনগুনিয়া রোগের সংক্রমণ ঘটে এডিস প্রজাতির এডিস ইজিপ্টি এবং এডিস এলবোপিকটাস মশার মাধ্যমে। চিকুনগুনিয়া ভাইরাসটি টোগা ভাইরাস গোত্রের। মশাবাহিত হওয়ার কারণে একে আরবো ভাইরাসও বলে। ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসও এই মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং রোগের লক্ষণ প্রায় একই রকম। এ ধরনের মশা সাধারণত ভোর বেলা অথবা সন্ধ্যায় কামড়ায়। একটি পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে মশার মাধ্যমে অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঘরের ভেতরে অর্ধস্বচ্ছ পানি, ফুলের টব, ফেলে রাখা কৌটা বা বোতল, পানির ট্যাংক, ছাদে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, আবর্জনার স্তুপ বা ডাবের খোসার ভেতরেও জন্ম নিতে পারে এডিস মশা। তাই বাড়ির ভিতরে, বাড়ির ছাদে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

যে রিট আবেদনে হাই কোর্ট চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রুল দিয়েছে, সেটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুজাউদ্দোলা আকন্দ। ওই আবেদনের শুনানিতে গত ৯ জুলাই সুজাউদ্দোলা আদালতে বলেন, খবর অনুযায়ী মশা নিধন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার বাজেট রয়েছে। কিন্তু এতো টাকা যায় কোথায়? সেটাও দেখার দরকার। বিচারক তখন বলেন, টাকাতো খরচ হচ্ছে। কিন্তু এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বিষয়টাও দেখতে হবে। তাদের কি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না? ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মশক নিধনে ব্যয় করেছে ৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর আওতায় প্রতিদিন সকালে লার্ভিসাইডিং আর বিকেলে এডাল্টিসাইডিং করা হয় বলে করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দাবি। তবে সিটি করপোরেশনের ফগারম্যানরা নিয়মিত ওই কাজটি করেন না এবং যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় তাতে ভেজাল থাকায় মশার তেমন কিছু হয় না বলে নগরবাসীর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে পাঁচজন ফগারম্যান দিয়ে দিনে দুবার স্প্রে করা সম্ভব কি-না সে প্রশ্নও বিভিন্ন আলোচনায় তুলেছেন কাউন্সিলররা।

মন্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যর্থ বা সফল এমন বিশেষণ তিনি ব্যবহার করতে চান না। ব্যাপারটা এমন না যে আমরা ব্যর্থ হয়েছি বা সফল হয়েছি। আমরা আমাদের কাজ করছি। আশা করছি আগামী ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে এটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। চিকুনগুনিয়া নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু করার নেই- স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সাথেও একমত নন মেয়র। একটা রোগের প্রাদুর্ভাব যখন আসে, তখন সম্মিলিতভাবেই তা প্রতিরোধ করতে হয়। তাদের অবশ্যই কিছু করার আছে। এ ধরনের বিদেশি রোগগুলো যেসব জায়গা দিয়ে আমাদের দেশে আসে সেসব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো। চিকিৎসা সেবাসহ রোগটি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ তারা নিতে পারে। তবে চিকুনগুনিয়া রোগটি তুলনামূলকভাবে নতুন বলে ব্যবস্থা নিতে কিছুটা দেরি হওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মেয়র খোকন।

 


আরো দেখুন

পান ভুট্টার সমাহার ব্ল্যাক বেঙ্গল গট চুয়াডাঙ্গার সেøাগানে জেলা ব্র্যান্ডিং বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় জেলা-ব্র্যান্ডিং চূড়ান্তকরণে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় জেলা প্রশাসকের …

Loading Facebook Comments ...