জাগ্রত বিবেক কি কখনো অমানবিক হতে পারে?

কোনো অপরাধীকে হাতে নাতে ধরার পরও তাকে মারার অধিকার কারোর নেই। ধরে আইনে সোপর্দ করা সামাজিক দায়িত্বেরই অংশ। আর সন্দেহের বসে কাউকে ধরে মারপিট করে পুলিশে দেয়া? অমানবিকই শুধু নয়, দ-নীয় অপরাধ।
একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকে ছেলে ধরা সন্দেহে মারপিট করা কতোটা অমানাবিক? অবাক হলেও সত্য যে, সভ্য বলে দাবি করা আমাদের এই সমাজে মাঝে মাঝেই এ ধরনের আইনত দ-নীয় এবং অমানবিক ঘটনার খবর পত্রস্থ হয়। গতকালও দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার শেষ পাতায় আলমডাঙ্গার একটি এলাকায় মানসিক প্রতিবন্ধীকে ছেলে ধরা সন্দেহে ধরে মেরে পুলিশে দেয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরে অবশ্য পুলিশ মানসিক প্রতিবন্ধীকে ছেড়ে দিয়েছে। যদিও তাকে হাসপাতালে ভর্তির বদলে ছেড়ে দেয়ার মধ্যে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরও দায় এড়ানো কতোটা আইনসিদ্ধ তাও প্রশ্নবিদ্ধ। ওর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সাংবিধানিক।
ওই সমাজে তখনই শান্তির সুবাতাস বয় যখন সমাজের সকলে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হয়। একে অন্যের প্রতি যতœবান হওয়া দায়িত্বেরই অংশ। আর সন্দেহের বসে কাউকে একটু অন্যভাবে দেখাটা হীনমানসিকতায় ভোগারই নামান্তর। তাই বলে সকলকে বিশ্বাস করতে হবে? আশে পাশে প্রতারকের যতোটা উৎপাত তাতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সতর্কতা অবলম্বন সময়েরই তাগিদ। তাই বলে হুজুগে মেতে মানুষ হয়ে মানুষকে মারার উল্লাস কি অসভ্যতা নয়? অবশ্যই। বিবেক বিবর্জিত এ কাজ আইনত দ-নীয় অপরাধ করা হয়েছে মূলত সমাজেরই স্বার্থে। অথচ সভ্যতার এতোকাল পেরিয়েও আমরা মাঝে মাঝে অসভ্য হয়ে উঠি।
অবশ্যই সমাজ সুন্দরের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। কুসংস্কার নামক অন্ধকার তাড়িয়ে সচেতনতার আলো সমাজকে শুধু সমৃদ্ধই করছে না, জাগিয়ে তুলছে মানুষের বিবেকও। যাদের বিবেক এখনও জাগেনি তারাই কেবল হতে পারে অমানবিক।


আরো দেখুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ এবং ৩২ ধারা

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রকে বিকল্প সংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংসদে রাষ্ট্রেীয় কাজকর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত …

Loading Facebook Comments ...