বৃহস্পতিবার , আগস্ট ১৬ , ২০১৮

চুয়াডাঙ্গার ছোটসলুয়া কৃষক সমবায় সমিতির পুকুর লিজ নিয়ে জালিয়াতি

মেয়াদ শেষ হলেও ক্ষমতার দাপটে ছাড়ছে না দখল : দিশেহারা সমিতির হতদরিদ্র সদস্যরা
স্টাফ রিপোর্টার : চুয়াডাঙ্গা সদর ছোটসলুয়া কৃষক সমবায় সমিতির লিজের মেয়াদ শেষ হলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দখল ছাড়ছে না নেহালপুর গ্রামের বাসুদেব। বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি এবং পুলিশি হয়রানি করছেন সদস্যদের। সহজ সরল সদস্যরা পড়েছেন চরম বিপাকে। এ ঘটনায় সদস্য এবং অবৈধ্য লিজ গ্রহীতার মধ্যে বিরাজ করছে উত্তেজনা। দরিদ্র সদস্যগুলোর মধ্যে রয়েছে চাপাক্ষোভ। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটসলুয়া গ্রামের কুমিল্লাপাড়ায় হতদরিদ্র কয়েকজন মানুষ ১৯৭৭ সালে বিআরডিডিবি’র আওতায় প্রতিষ্ঠা করেন ছোটসলুয়া কুমিল্লাপাড়া কৃষক সমবায় সমিতি। সমিতির ৪১ বছরের মাথায় বর্তমানে এর সদস্য দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে। সমিতির সভাপতি ইদবার আলী ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনসহ ৭৪ জন সদস্য লিখিত অভিযোগে জানান, পুনরায় সমিতির কিছু জায়গা কেনার জন্য ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি সমিতির তৎকালীন ম্যানেজার শুকুর আলী ২ একর ৬১ শতক অর্থাৎ প্রায় ৮ বিঘা জমি (পুকুর) ১৪ বছরের জন্য লিজ দেয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। নামমাত্র বার্ষিক লিজ মূল্য দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৮শ’ ৬০ টাকা। আর লিজ গ্রহণ করেন নেহালপুর গ্রামের চৈতন্য হালদারের ছেলে বাসুদেব হালদার। যে লীজের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি। লিজের মেয়াদ শেষ হলেও লিজ গ্রহীতা বাসুদেব ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই পুকুর ছাড়তে নারাজ। যুক্তিনামার ২নং শর্তে লিজ গ্রহীতা কৌশলে উল্লেখ করে রেখেছে ভোগদখল স্ট্যাম্প কেনার দিন থেকে হলেও চার বছর পর থেকে লীজের কার্যকারিতা শুরু হবে। যা হাস্যকর এবং জালিয়াতির সামিল বলে সমিতির সদস্যরা মনে করেন। এদিকে ধ্রুত লিজ গ্রহীতা সমিতির ৭৪ জন সদস্যের কাউকেই স্ট্যাম্পে স্বাক্ষী করেননি। অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জনই এমনটি করেছেন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। অভিযোগে আরও জানা যায়, এখনও বাসুদেব লিজের ২৬ হাজার টাকা পরিশোধ না করা, পুকুর পাড়ের প্রায় ১ লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রকার গাছ বিক্রি করে দেয়া, পুকুর পাড় মেরামত না করাসহ বিভিন্ন চুক্তি ভঙ্গ করায় সমিতি থেকে একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয় তাকে। তাতে কোনো কর্ণপাত করেন না তিনি। তাই গত ৩০ নভেম্বর বর্তমান কমিটি ওই চুক্তি বাতিল করে দেন। চুক্তি বাতিলের পর থেকে বাসুদেব সমিতির সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি এবং পুলিশি হয়রানি করে আসছেন। ফলে সমিতির হতদরিদ্র মানুষগুলো লিজ গ্রহীতার জালিয়াতির ফাঁদে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নিজেদের পুকুর নিজেরাই দখল না পয়ে বর্তমানে সমিতির সদস্যদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভের আগুন। এ ঘটনায় সমিতির সদস্য এবং অবৈধ লিজ গ্রহীতার মধ্যে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল। এ ব্যাপারে লিজ গ্রহিতা বাসুদেবের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।


আরো দেখুন

লিখিত-এমসিকিউ’র সমন্বনে ইবির ভর্তি পরীক্ষা

স্টাফ রিপোরর্টার: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা লিখিত ও …

Loading Facebook Comments ...