স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য

৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’র সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে স্যাটেলাইটটির সফল উৎক্ষেপণ করা হয় এবং একে মহাকাশে পৌঁছে দিয়ে ৩ মিনিটের মধ্যে এটিকে বহনকারী রকেট ফ্যালকন-৯ ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ জাতি হিসেবে আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি এর মধ্যদিয়ে স্যাটেলাইট টিভি, ইন্টারনেট সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসার পথ সুগম হয়েছে। আশাবাদী হওয়ার মতো একটি উপহার দেশকে দেয়ায় সরকারের শীর্ষমহল থেকে শুরু করে আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’র মহাকাশযাত্রা শুরুর পর দুটি পর্যায়ে এর উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায় ১০ দিন ও দ্বিতীয় পর্যায় ২০ দিনে সম্পন্ন হবে। আমরা আশাবাদী, প্রক্রিয়াগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন হবে এবং যে স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, তা দ্রুত ফল দেয়া শুরু করবে। উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ২টার পর স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় এর উৎক্ষেপণ বন্ধ রাখা হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের নিয়ম-কোনো ধরনের ক্রটি-সন্দেহ রেখে তা উৎক্ষেপণ করা হয় না এবং এ কারণে উৎক্ষেপণের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবে একই ঘটনা ঘটেছিলো। একদিন বিলম্ব হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে স্যাটেলাইটধারী অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ জাতি হিসেবে আমাদের জন্য বড় সুখবর।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফল হিসেবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছুনো, স্যাটেলাইট টিভির ডিটিএইচ-ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস বা কেবল টিভির সংযোগের উন্নত সেবা চালু, টিভিগুলোর সম্প্রচার এবং ভি-স্যাট ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদানকারীদের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া এসব কাজে ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও আমাদের প্রয়োজনের বাইরে এর সক্ষমতা ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের পথেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী। তবে সবচেয়ে বড় কথা, একসময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলে আমাদের অবজ্ঞা করা জাতিগুলোর সামনে স্যাটেলাইটের মালিক হয়ে নিজেদের অপার সম্ভাবনার পথ আমরা দেখিয়ে দিতে পেরেছি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যেমন আমাদের জন্য মহাকাশযাত্রার মাইলফলক, তেমনি এর মাধ্যমে পাওয়া প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে আগাম ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাবে বলে আশা করা যায়। ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস অ্যালেনিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া স্যাটেলাইট প্রকল্পটির আরেকটি ইতিবাচক দিক- এর জন্য বরাদ্দ অর্থ ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকার মধ্যে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। যেখানে যে কোনো প্রকল্পের ব্যয় একাধিকবার বাড়িয়েও কাজ শেষ করানো যায় না, সেখানে বরাদ্দ ব্যয় থেকে কম খরচে সফলভাবে কাজ সম্পন্ন হওয়া নজির বৈকি। মানসম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্যাটেলাইটটির সেবা দ্রুত কার্যকরভাবে পাওয়া যাবে।


আরো দেখুন

যুবসমাজকে বাঁচাতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে

মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। গত দুই সপ্তাহে সারা দেশে মাদকবিরোধী …

Loading Facebook Comments ...