দামুড়হুদার মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুলকে সাময়িক বহিষ্কার

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের জরুরি বৈঠক : ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
দর্শনা অফিস: দামুড়হুদার মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আলোচিত সেই শিক্ষক এনামুল আবারও লাম্পট্যের বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছে। স্কুলছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের কথপোকথন সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে হয়েছে ভাইরাল। এনামুলের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে রয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যেই করেছে মানববন্ধন। চুপিসারে পালাতে গিয়ে জনরোষানলে পড়ে চরমভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে এনামুলকে। সালিসের মাধ্যমে বিচারের আশ্বাসে সাময়িকভাবে মুক্ত করা হলেও অবশেষে টানা ১১ দিনের মাথায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুলকে করা হয়েছে সাময়িক বহিষ্কার। ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বৈঠক থেকেই। দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের উজিরপুর মন্ডলপাড়ার সহিরউদ্দিন মন্ডলের ছেলে এনামুল হক উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সমাজ-বিজ্ঞান বিষয়ে সহকারী শিক্ষকতা করেন। বছর আটেক ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে। তার স্ত্রী খুশি খাতুন মদনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকতা করার সুবাধে মদনা মাঝপাড়ায় বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। ইতঃপূর্বে এনামুল হক আরও একটি নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়েও রক্ষা পেয়ে যায়। স্কুলছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে কি এবার ফেঁসে গেলেন এনামুল, নাকি এবারও কোনো ফাঁকফোকড় দিয়ে ফসকে রেহায় পেয়ে যাবে এ প্রশ্ন অনেকেরই মুখে মুখে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রীদের নানাভাবে কুনজরে দেখে আসছিলো এনামুল হক। গত ২ মে মঙ্গলবার দুপুরে মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মোবাইল ফোনে কল করে অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক এনামুল হক। মোবাইল ফোনে ওই ছাত্রীকে নানাভাবে ফুসলানোর চেষ্টা করা হয়। ছাত্রীর দেহভোগের কুপ্রস্তাবসহ নানা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখায় এনামুল হক। টানা ৯ মিনিট ২০ সেকেন্ডের কল রেকর্ডকে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট দিলে ভাইরালে পরিণত হয়। গোটা গ্রামে শুরু হয় শিক্ষক এনামুলের লাম্পট্যের কাহিনী নিয়ে সমলোচনা। ফুঁসতে থাকে গ্রামবাসী। অবস্থা বেগতিক বুঝে অভিযুক্ত এনামুল দুদিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রাতের আধারে পালানোর চেষ্টা করলে ইউনিয়নের জিরাট গ্রাম থেকে গ্রামবাসী আটকিয়ে এনামুলকে জনরোষ থেকে রক্ষা করতে মদনা বাজারের সমিতির ভবনে আটকে রাখা হয়। এ সময় সমিতির কার্যালয়ের সামনে যেনো গোটা গ্রামের মানুষ সমবেত হয়ে এনামুলের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠে। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গ্রামের মাতব্বরদের অনেকটাই হিমশিম খেতে হয় সে সময়। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও গ্রামের মাতব্বররা বিচারের আশ্বাস দিয়ে মুক্ত করে এনামুলকে। আটকের ২ দিনের মাথায় শনিবার বিদ্যালয় চলাকালীন এনামুলের সালিশ বৈঠক হওয়ার নির্ধারিত দিন থাকলেও অজ্ঞাত কারনে বসেনি সালিশ। নির্ধারিত দিনে সালিশ বৈঠক না হওয়ায় সকাল ৯ টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে শিক্ষার্থীরা করে মানববন্ধন। অবশেষে দেরিতে হলেও ঘটনার ১১ দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় পরিচালনা কমিটির বৈঠক। এ বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলম। জাকারিয়া আলম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুলকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অভিভাবক সদস্য মনিরুল ইসলাম। সদস্যরা হলেন, খোরশেদ আলম ও আ. রাজ্জাক। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।


আরো দেখুন

আলমডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২০জন মাদকসেবী আটক

আলমডাঙ্গা ব্যুরো/আসমানখালী প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে …

Loading Facebook Comments ...