বৃহস্পতিবার , আগস্ট ১৬ , ২০১৮

পুলিশের ধাওয়ায় সন্ধ্যায় পলায়ন : সকালে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার বেলগাছি-মাখাডাঙ্গা সড়কের গঙ্গাচরা মাঠে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের কিলিংমিশন

স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না সাকিব হাসান সান নামের এক যুবকের। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি এলাকার একটি মাঠ থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সান চুয়াডাঙ্গা শহরের মাঝেরপাড়া এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। সে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিলো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে বেলগাছি-মাখালডাঙ্গা সড়কের গঙ্গাচরা মাঠে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালমর্গে পাঠায়। পরে নিহতের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন। তারা জানান, সোমবার সন্ধ্যার আগে সান (২৫) মুসলিমপাড়ায় ফুপুরবাড়িতে অবস্থান করছিলো। এ সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। সকালে পাওয়া যায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ।
সানের ফুফু রতনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির দারোগা ইমরান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমার মুসলিমপাড়ার বাড়িতে সানকে গ্রেফতার করতে আসেন। প্রথমে সানকে না পেয়ে আমার ছেলে সবুজকে আটক করেন তারা। পরে একটি ফোন পেয়ে দারোগা আমার ছেলে সবুজকে ছেড়ে দিলেও বিনিময়ে পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। টাকার জন্য দারোগা ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়ে চলে যান। দারোগা ইমরান এ সময় সানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সানকে ধরতে পারলেই গুলি করা হবে’। অতঃপর সকালে পাওয়া যায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ।’ তবে এ ব্যাপারে সদর ফাঁড়ির অভিযুক্ত এএসআই আবু আল ইমরান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘অভিযোগকারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশ হয়ে এটা করা যায় না। তিনি যা বলেছেন সম্পূর্ণ মনগড়া কথা। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না’
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম জানান, ‘নিহত সান কুখ্যাত ছিনতাইকারী ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিলো। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ডাকাতিসহ ৮টি মামলা রয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা গুলি করে হত্যা করেছে সেটা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই জানে না।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের কোনো আত্মীয় মামলা না করায় এসআই নাজমুল বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেছেন।


আরো দেখুন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মোবাইল চোরকে গণধোলাই শেষে পুলিশে সোপর্দ

স্টাফ রিপোর্টার: সাত সকালে হাসপাতালে মানুষের ছোটাছুটি হৈ চৈ দেখে সাধারণ রোগীদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি …

Loading Facebook Comments ...