বান্ধবীর সাথে মোবাইলফোনে কথা বলার কারণেই হত্যা করা হয় শাকিবকে

চুয়াডাঙ্গার স্কুলছাত্র হত্যার রহস্য উন্মোচন : গ্রেফতারকৃত দুজনের সরল স্বীকারোক্তি

দামুড়হুদা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্র শাকিবকে তার দু’বন্ধু ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে। আটক বন্ধুরা পুলিশের কাছে শাকিবকে হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার কার্যালয় মিলনায়তনে পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান পিপিএম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গত সোমবার ঘটে যাওয়া শাকিব হত্যাকা-ের বিষয়ে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, ‘শাকিব হত্যাকা-ে জড়িত তার দু’বন্ধুকে তাদের বাড়ি থেকে সোমবার দিনগত রাত ১টার দিকে পুলিশ আটক করে। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় নিহত শাকিবের মোটরসাইকেল ও তার ডিএসএলআর ক্যামেরা।
পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম জানান, ঘটনার পরপরই এক সাংবাদিক বন্ধু ও পুলিশ লাইনে কাজ করা একজনের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে হত্যাকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর গভীররাতে ডিবি পুলিশের সহায়তায় প্রথমে জুবায়ের নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে ওই তপু ও পাভেলকে আটক করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অকপটে শাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তিনি আরও জানান, জনৈক্য একটি মেয়ের সাথে নিহত শাকিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। ওই মেয়ের সাথে প্রেম ঘটিত বিষয় নিয়ে প্রায় মাস সাতেক আগে শাকিব তার বন্ধুদের সহযোগিতায় হাতিকাটার রশিদুল ইসলামের ছেলে তপুকে (১৬) মারপিট করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি ভেঙে দেয়। ওই ঘটনার জের ধরে তপু তার অপর বন্ধু দৌলাতদিয়াড়ের ইসতিয়ার হোসেনের ছেলে পাভেলকে (১৭) হাত করে। এরপর গড়ে তোলে শাকিবের সাথে বন্ধুত্ব। মনে মনে আটতে থাকে হত্যার পরিকল্পনা। তারা একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশতো শাকিব বুঝতেই পারেনি যে, তপু ওই ঘটনার প্রতিশোধ এভাবে নেবে। শাকিবের দু’বন্ধু তপু ও পাভেল গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে (এক মোটরসাইকেলে ৩ জন) প্রথমে যায় মুজিবনগরে। ওখানে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে এবং ছবি তোলার পর তারা চলে আসে দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুরস্থ মেহেরুন পার্কে। ওখানেও বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করার পর চলে আসে ভাইমারা খালের অদূরে গোপিনাথপুর অভিমুখে কাঁচা রাস্তার পাশে একটি ইপিলইপিল বাগানের ধারে। সেখানেই তপু আচমকা শাকিবের গালে সজোরে থাপ্পড় মারে। এ সময় শাকিব কিছু বুঝে ওঠার আগেই তপু ও পাভেল মিলে শাকিবকে মাজার বেল্ট দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের পর তপু ব্লেড দিয়ে পুঁচিয়ে পুঁচিয়ে গলা কেটে শাকিবকে নিঃশংসভাবে হত্যা করে এবং শাকিবের ব্যবহৃত ডিএসএলআর ক্যামেরা, মোবাইলফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। দুপুরে নিহত স্কুলছাত্র শাকিবের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি নান্দবার কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আকরাম হোসেন বলেছেন, হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ব্লেড, মাজার বেল্টসহ শাকিবের ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
এ সংক্রান্তে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার মাহবুবুুর রহমানের (পিপিএম) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আহসান হাবিব (পিপিএম), দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেকসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার উপস্থিত সাংবাদিকদের আরও জানান, এ ঘটনায় নিহত শাকিবের মা সাবিনা ইয়াছমিন পুতুল বাদী হয়ে তপু ও পাভেলসহ অজ্ঞাতনামাদের নামে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দামুড়হুদা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তপু ও পাভেলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ সিঅ্যান্ডবিপাড়ার ঠিকাদার মৃত আব্দুল করিমের ছোট ছেলে চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র শাকিবকে গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে পার্কে বেড়াতে যাওয়ার অজুহাতে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নেয় তারই দু’বন্ধু তপু ও পাভেল। তারা ৩ জনই একটি মোটরসাইকেলযোগে বেড়াতে যায়। দামুড়হুদার জুড়ানপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর আব্দুস সাত্তারের ইপিলইপিল বাগানের ধারে শাকিবকে গলা কেটে হত্যা করে।


আরো দেখুন

আলমডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২০জন মাদকসেবী আটক

আলমডাঙ্গা ব্যুরো/আসমানখালী প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে …

Loading Facebook Comments ...