বৃহস্পতিবার , আগস্ট ১৬ , ২০১৮

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের আবাসিক ছাত্রদের দুর্ভোগের অন্তঃনেই

বিল বকেয়া : হোস্টেলে বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিল বকেয়ার দায়ে বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন করা হয়েছে। ফলে আবাসিক শতাধিক আবাসিক ছাত্র ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। বিদ্যুতের কারণে পানি নেই, নেই লেখা-পড়ার পরিবেশ। ফলে আবাসিক ছাত্রদের দুর্ভোগের অন্তঃনেই।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের আবাসিক ছাত্রদের জন্য একটি ৪তলা ভবনে রয়েছে ২৭টি কক্ষ। এ কক্ষে ১০৮জন ছাত্র থাকতে পারে। বর্তমানে ৮৪জন ছাত্র আবাসিক হিসেবে রয়েছে। আবাসিক ছাত্ররা বলেছে, গত বুধবার বিদ্যুত বিভাগের লোকজন বিদ্যুত বিল বাবদ ২শ’ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বকেয়ার কারণে বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন করে দেয়। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিদ্যুত পুনঃসংযোগের ব্যবস্থা হয়নি। ফলে হোস্টেলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি নেই। বাথরুম ব্যবহার করতে না পেরে প্রকৃতির ডাকে ছুটতে হচ্ছে পাশের জঙ্গলে। দু’শিপটে ডিগ্রি ও মাস্টার্স পরীক্ষা চলছে। ২০ মে থেকে শুরু হবে অনার্স নির্বাচনী পরীক্ষা। বিদ্যুত না পেয়ে কেউ কেউ বাইরে থেকে সেলফোন বা মোবাইলফোন, চার্জার কোনো রকম চার্জ দিয়ে লেখাপড়া কিছুটা চালিয়ে নেয়ার চেষ্টায় মারিয়া হলেও গতরাতে হোস্টেলে গিয়ে পাওয়া গেছে পুঞ্জিভুত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের পূর্ব আলামত। ওদের অনেকেই যেন ফুসছে বারুদের মতো।
হোস্টেলে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক ছাত্র হিসেবে অবস্থানরত কয়েকজন বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছে, কলেজ হোস্টেলটি নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর বিশেষ টিমের সদস্যরা ভবনটি ব্যবহার করতেন। তখনও বিদ্যুত সংযোগ ছিলো। শোনা যায় ওই সময় বিদ্যুত বিল বকেয়া পড়ে। ২০০৯ সাল থেকে ৪তলা ভবনের হোস্টেলে ছাত্ররা আবাসিক হিসেবে বসবাস শুরু করে। ২৯০ টাকা হারে হোস্টেল ফি পরিশোধ করতে হতো। বিদ্যুত বিল বকেয়া থাকার কারণে গত এক বছর ধরে হোস্টেল ফি বাবদ নেয়া হয় ৩১০ টাকা। অধিকাংশ ছাত্রেরই হোস্টেল ফি পরিশোধ। অথচ বিদ্যুত বিল বকেয়ার কারণে হোস্টেলে বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের হোস্টেলে বিদ্যুত বিছিন্ন ও পুনঃসংযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কলেজের অধ্যক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, হোস্টেলটি কলেজের অধীনে হলেও হোস্টেলের যাবতীয় খচর আবাসিক ছাত্রদেরই পরিশোধ করতে হয়। একাধিকবার নোটিশ পেয়েও ওরা তা পরিশোধ করেনি বলেই বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন করেছে। আবাসিকের ছাত্রদের ফি পরিশোধ সাপেক্ষে বিল পরিশোধপূর্বক বিদ্যুত পুনঃসংযোগ নেয়া হবে। অপরদিকে বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন করার বিষয়ে ওজোপাডিকোর চুয়াডাঙ্গার নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৩৬১ হাজার টাকা বিদ্যুত বিল বকেয়া রয়েছে। নোটিশ দিয়েও সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।


আরো দেখুন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মোবাইল চোরকে গণধোলাই শেষে পুলিশে সোপর্দ

স্টাফ রিপোর্টার: সাত সকালে হাসপাতালে মানুষের ছোটাছুটি হৈ চৈ দেখে সাধারণ রোগীদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি …

Loading Facebook Comments ...