যথাসময়ে পাঠ্যবই ছাপার শঙ্কা

বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি সাফল্য হলো বছরের প্রথম দিনে স্কুল-ছাত্রদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে পারা। টানা কয়েক বছর ধরে এর কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি। কিন্তু এবার যথাসময়ে ছাত্রদের হাতে সব পাঠ্যবই তুলে দেয়া যাবে কি-না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। মুদ্রণের দর নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে অক্টোবরে যে বইয়ের ছাপার কাজ শেষ হওয়ার কথা, তা আদৌ নভেম্বরেও শেষ না হওয়ার সংশয় তৈরি হয়েছে। এর পেছনে মুদ্রাকরদের সিন্ডিকেট এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সরকারবিরোধী চক্রের কারসাজি আছে কিনা, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এনসিটিবি যে দরে বই মুদ্রণ করতে চায় তার চেয়ে বেশি দর হাঁকছেন মুদ্রাকররা। এ কারণে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের পাঁচটি টেন্ডারের চারটি নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। তার মধ্যে আবার প্রাথমিক স্তরের দুটি টেন্ডার বাতিলই হয়ে গেছে। এ কারণে অক্টোবরে ছাপানোর লক্ষ্য স্থির করা বই-জটিলতা না কাটলে ডিসেম্বরেও মুদ্রণ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। যথাসময়ে শিশুদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেয়ার মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজটি যে কোনো মূল্যে দ্রুত শেষ করে বছরের প্রথম দিনে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। শিক্ষা খাতে সরকারের চলমান একটি সাফল্য নির্বাচনের বছরে এসে হুমকির মুখে পড়া কারও-ই কাম্য হতে পারে না। বিশেষত, যখন এর সঙ্গে জড়িত বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নেয়ার মতো মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।

মুদ্রাকররা বলছেন, এ বছর কাগজের দাম অনেক বেশি। দাম বেড়েছে বই ছাপানোর অন্যান্য উপকরণেরও। তাদের দাবির যৌক্তিকতা দেখা গেছে এনসিটিবির মাধ্যমিকের বই ছাপানোর ৩৪০ প্যাকেজের কাগজ গত বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি দামে কেনার মধ্যদিয়ে। প্রশ্ন হল, যেখানে ৬০ জিএসএম পুরত্বের কাগজ এনসিটিবি ৫০ শতাংশ বেশি দামে কিনেছে, সেখানে প্রাইমারির জন্য ৮০ জিএসএম পুরত্বের কাগজের দাম বেশি দিতে সমস্যা কোথায়? কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাকে কাগজ ও বইয়ের কাজের প্রাক্কলন তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতবিরোধের কারণে টেন্ডার বাতিল হয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে অতিমুনাফালোভী মুদ্রাকরদের কারসাজি ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কোনো চক্রান্ত আছে কিনা, তা যেমন খতিয়ে দেখতে হবে, তেমনি দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজও সমান্তরালে শেষ করতে হবে। বস্তুত, দেশে যে কোনো ধরনের টেন্ডারের ক্ষেত্রে এক শ্রেণীর কর্মকর্তারা কখনও ব্যক্তিগত লাভ, আবার কখনও সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ফলে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক রাষ্ট্রের ভবিষ্যত তৈরির বিনিয়োগ বিবেচনায় প্রয়োজনে দরের বিষয়টি গৌণ হিসেবে দেখতে হবে। আশার কথা, বিষয়টির সমাধানে গোয়েন্দারা এনসিটিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসেছেন। কারও অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নেয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পাঠ্যবই ছাপানোর পর বাঁধাই, শুকানো ও দেশব্যাপী পৌঁছুনোর বিষয় মাথায় রেখে দ্রুততার ওপর জোর দিতে হবে। বছরের প্রথম দিনে পাঠ্যপুস্তকপ্রাপ্তিতে বিলম্ব যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করা হোক অগ্রাধিকার।


আরো দেখুন

ক্রিকেটের এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে

ক্রিকেটের ইতিহাস গড়া মেয়েদের অভিনন্দন। ঈদের আগেই ঈদের আনন্দ। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এশিয়ার সেরা এখন …

Loading Facebook Comments ...