বাস্তবায়ন হলে সমাজের উপকার হবে

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বর্তমান সরকারের দশম বাজেট এবং তার জীবনের দ্বাদশ বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন বৃহস্পতিবার। ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি বছরের বাজেটে যা ছিলো ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির গড় হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, চলতি অর্থবছরের বাজেটে যা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ রাখা হয়েছে। দেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে এটি সবচে বড় বাজেট। বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। তন্মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে গ্রামীণ দরিদ্র ও প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৫২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। শ্রমবাজারে প্রতি বছর ২০ লাখ লোক যুক্ত হয়ে থাকে বলে বিভিন্ন ধরনের কার্য উপযোগী শ্রমশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বস্তুত শ্রমশক্তির মান আন্তর্জাতিকীকরণের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনী বছর হওয়ায় এবারের বাজেট বাস্তবায়ন তিনটি সরকারের মধ্যদিয়ে হবে বলে আশা করা যায়। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এগুলো অব্যাহত রাখতে হবে। দারিদ্র্য ও চরম দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৩ এবং ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অগ্রগতি। এদিকে বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াট হয়েছে এবং বিদ্যুতের সিস্টেম লসও হ্রাস পেয়েছে। দেশের অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে শিক্ষার মানোন্নয়নের বিকল্প নেই- যাতে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশের শ্রম বাজারেও মানসম্পন্ন মানব সম্পদ রপ্তানি করা যায়। উচ্চপর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আবার রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের জন্য পোশাক খাতের মানোন্নয়নের পাশাপাশি ওষুধ খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাজেটে মেগা প্রকল্পগুলো বিশেষত পদ্মা সেতু এই বছরেই চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
করের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে কর আদায়ে আরো দক্ষতা অর্জন এবং প্রায়োগিক কলাকৌশল নতুন করে গ্রহণ করতে হবে। মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে মানুষকেই উন্নয়নের সর্বাগ্রে রাখতে হবে। ব্যাংকিং খাতে যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে তা দূর করতে হবে। নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। তবে কর্মসংস্থান অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বদলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে রূপান্তরের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকা-কে বেগবান করতে হবে। বস্তুত ঘোষিত বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাজেটটি যাতে বাস্তবায়িত হয় সেই ব্যাপারে বিশেষ যতœবান হতে হবে।
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ সাফল্য অর্জিত হলেও যারা বিভিন্ন পর্যায়ে সেবা প্রদান করছে তারা সেবা প্রদানের নামে গ্রাহকদের হয়রানি করছে কি-না সেই ব্যাপারে তদারকির ব্যবস্থা থাকতে হবে। এইবারের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের রূপরেখা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী- যা বাস্তবায়ন হলে সমাজের উপকার হবে।


আরো দেখুন

হাসপাতালে র্দীঘদনি ধরে এন্টস্নিকে ভনেম নইে

গরমে ও বর্ষায় সাপের উপদ্রব বাড়ে। বিষধর সাপে কাটলে এবং বিষ প্রয়োগ করলে এন্টি¯েœক ভেনম …

Loading Facebook Comments ...