সাতাশ পেরিয়ে আজ আটাশ বছরে দৈনিক মাথাভাঙ্গা

সাতাশ পেরিয়ে আজ আটাশ বছরে দৈনিক মাথাভাঙ্গা। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কুসংস্কারের অন্ধকার তাড়িয়ে আলোকিত সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও নির্যাতক উৎখাতের অদম্য সাহসে ভরপুর একদল টগবগে যুবক যেদিন নিপীড়িতের পাশে থাকার শপথ নিয়েছিলো, সেদিন ছিলো ১৯৯১ সালের ১০ জুন। ২৭ বছরের লম্বা পথ মাড়াতে হারাতে হয়েছে বেশ ক’জন সহযোদ্ধাকে। অনিয়ম দুর্নীতি রুখতে গিয়ে হয়রানির ফিরিস্তিও বেশ লম্বা। চড়াই উৎরায় পেরিয়ে প্রতিষ্ঠার ২৮ বছরে পদার্পণের শুভক্ষণে মাথাভাঙ্গা পাঠককূলই অভিবাদন পাওয়ার দাবিদার। পাঠকই সাহস, পাঠকই পৃষ্ঠপোষক, পাঠকই আমাদের পাথেয়।
সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশই যখন চুয়াডাঙ্গায় ছিলো দুঃসাধ্য, তখন দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ ক’জন যুবকের পাগলামির মতোই মনে হয়েছে অনেকের কাছে। কটাক্ষও কম ছিলো না। নিন্দা? সে তো অলঙ্কার। কটূক্তি, নিন্দা আর পদে পদে প্রতিবন্ধকতা মাথাভাঙ্গাকে শুধু সকর্তই করেনি, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার যোগ্য করে তুলেছে। ধীরে ধীরে স্থানীয় পত্রিকার খেতাব মুছে আঞ্চলিক পত্রিকা হিসেবে পাঠকের মনই জয় করেনি, স্বীকৃতিও আদায় করেছে। প্রতিদিন প্রভাতে দৈনিক মাথাভাঙ্গার ছাপা কপি যেমন কয়েকশ’ বিক্রয় প্রতিনিধি পাঠককূলের হাতে তুলে দেন, তেমনই ইথারে ভাসিয়ে তথা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রায় একযুগ ধরে খবরাখবর পৌঁছে দেয়া হয় বিশ্বের প্রায় সব দেশে। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার একাংশের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ছিটিয়ে ছড়িয়ে থাকা পাঠককূলের অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমাদের স্বপ্ন পূরণের সহযোদ্ধা। পাশে থাকেন বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ী। আজকের দিনে সকলকে শুভেচ্ছা।
দৈনিক মাথাভাঙ্গা প্রতিষ্ঠার গল্পটাও বেশ বড়। প্রথমে ছিলো প্রস্তাবিত পর্ব। পরে পথচলার সংগ্রাম। শুরুর পর্বে সহযোদ্ধাদের মধ্যে হামিদুল হক মুন্সী, আলী কদর পলাশ, মানিক আকবর, রিচার্ড রহমান, পাঞ্জু রহমানের নাম আজকের দিনে স্মরণ করতেই হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর সম্পাদক হিসেবে ও পরবর্তীতে প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মাথাভাঙ্গা পরিবারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম পিনু। তার অবদানের কথা অনিস্বীকার্য। কয়েক বছর তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও প্রধান সম্পাদক পদটি তার জন্যই রাখা। তিনিসহ ইহকাল ছেড়ে চলে গেছেন তার সহধর্মিণী মমতা, সদরুল নিপুল, সাঈদুল্লাহ আল সাহেদ, তছলিম আহমেদ পেনু, হাফিজুল ইসলাম হাফিজ মাস্টার, ইলিয়াস হোসেন ইলু, আন্দুলবাড়িয়ার এজেন্ট নাসির উদ্দীন ও মেহেরপুরের খ-কালীন সংবাদদাতা সামাদুল ইসলামসহ নাম জানা না জানা অসংখ্য পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীকেও হারিয়েছি আমরা। প্রতিষ্ঠার এইদিনে তাদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
দৈনিক মাথাভাঙ্গা বিগত দিনে কতোটা পেরেছে, কতোটা পারেনি তা পাঠককূলেই বেশি জানে। তবে প্রতিদিনই মাথাভাঙ্গা পরিবারের প্রত্যেকেই পাঠককূলের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের পক্ষে রায় নেয়ার চেষ্টায় ত্রুটি রাখেন না। পারা না পারার জন্য কখনো কখনো পরিবেশেরও যে ভূমিকা থাকে তা নিশ্চয় পাঠকসমাজও উপলব্ধি করে। যেখানেই কুসংস্কারকে পুঁজি করে বাণিজ্যিক ফাঁদ পাতার পাঁয়তারা, সেখানেই মাথাভাঙ্গার ক্যামেরা ঝলসে ওঠে। শানিত কলমও রুখে দাঁড়ায়। সন্ত্রাস? এক সময়ের সন্ত্রাস কবলিত জনপদে মাথাভাঙ্গার ভূমিকা এলাকাবাসীর স্মৃতিপটে আজও অম্লান। এখানেই শেষ নয়, সমাজকে সামনের দিকে নিতে ইতিবাচক মানসকিতা লালনের অন্যতম বীজবপনকারী যে এই মাথাভাঙ্গা তাও নিশ্চয় কেউ অস্বীকার করবেন না। সমাজে প্রত্যাশিত সুন্দরের কাছে নিতে সকলকে ভালো হওয়ার প্রতিযোগিতায় মাতিয়ে তোলারও প্রচেষ্টা রয়েছে সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে।
এক সময় হাঁটি হাঁটি পা পা ছিলো। সকলেরই থাকে। মাথাভাঙ্গা এখন পূর্ণযৌবনে। অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাথাভাঙ্গার তারুণ্যকে আরও তারুণ্যে ভরপুর করার প্রত্যয়ে আগামীদিনগুলোতেও পাঠককূলের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে মাথাভাঙ্গা পরিবার। বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীর সহযোগিতার ধারা পূর্বের চেয়ে বেশি বেশি চাওয়া নিশ্চয় অমূলক নয়। মাথাভাঙ্গা তার প্রতিষ্ঠালগ্নের প্রতিশ্রুতি ভোলেনি, ভুলবে না। কখনো কখনো পরিবেশ পরিস্থিতি গড্ডালিকায় গা ভাসানোর মতো মনে হলেও তা যুদ্ধেরই কৌশল। সকলের সহযোগিতায় ন্যায় প্রতিষ্ঠার পরিবেশ থাকুক অনুকূলে। সকলকে ছালাম ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।


আরো দেখুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ এবং ৩২ ধারা

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রকে বিকল্প সংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংসদে রাষ্ট্রেীয় কাজকর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত …

Loading Facebook Comments ...