চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে ঈদ সামনে রেখে কতিপয় অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতা কালোবাজারী

টিকেট কালোবাজারিদের টাকা দিয়ে রাখা হচ্ছে জামাই আদরে
খাইরুজ্জামান সেতু: চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। টিকেট বিক্রির পদ্ধতি যতো আধুনিক হচ্ছে, অপকর্মের ধরনও ততো পাল্টাচ্ছে টিকেট কালোবাজারিরা। এর সাথে রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মচারী জড়িত থাকায় অগ্রিম টিকেট সাধারণ যাত্রীরা পাচ্ছেন না। অগ্রিম টিকেট বিক্রির শুরুর দিন থেকে টিকেট কালোবাজারি হচ্ছে।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন হয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর ও লোকাল মিলিয়ে আপডাউনে ১৫টি ট্রেন চলাচল করে থাকে। এছাড়া ঢাকা-কোলকাতাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেসও চলাচল করে। আর এই স্টেশনের টিকেট কালোবাজারি চলে দিনে রাতে সমানে। বাতিঘরে স্টেশনের কর্মচারীদের বাড়িঘর করে বসবাস করা ছাড়াও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বিশেষ করে ঢাকাগামী সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেসে টিকেট বেশি কালোবাজারি হয়ে থাকে। ঈদকে সামনে রেখে কালোবাজারিদের আরও দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই টিকেট কালোবাজারির সথে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের কতিপয় অসাধু কর্মচারী জড়িত।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল সোমবার ভোর ৩টার দিকে সরেজমিন দেখা যায় কাউন্টারের সামেন কিছু ব্যক্তি পাটি বিছিয়ে শুয়ে আছে। সবাই টিকেরে জন্য অপেক্ষা করছে, কখন বিক্রি শুরু হবে সোনার হরিণ নামক টিকেট। আর একপাশে শুয়ে আছে শহরের আরামপাড়ার বাবর আলীর ছেলে উজ্জ্বল, সাতগাড়ির জহিরের ছেলে শহিদ, ফার্মপাড়ার আইয়ুব শেখের ছেলে বাবুল ও একই পাড়ার হারুনের ছেলে রাতুল। সাথে তারা রেলওয়ে বিদ্যুতের মাধ্যমে ছোট টেবিল ফ্যানও ব্যবহার করছে। এই বিষয়ে উজ্জ্বল নিজেকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মাস্টার রোলের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে দাবি করে, প্রশ্ন করে আমাকে চিনেন না? আমি উজ্জ্বল। ফ্যানটার আমারই। বিদ্যুতকে দিয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলেন কাউন্টারে থাকে ডালিম দিয়েছে। আমার বাবা রেলওয়েতে চাকরি করে। ৪টা টিকেট নেবো তাই বসে আছি। এতো টিকেট কি হবে এমন প্রশ্ন করলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার বাবা অনেক আগেই রেলওয়ের চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। শহিদ জানান ২টা টিকেট লাগবে। রাতুল জানান ৪টি টিকেট লাগবে। কেন লাগবে? এই প্রশ্নে কেউ সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। বাবুল নিজেকে রেলওয়েতে চাকরি করে কামালের লোক বলে দাবি করে বলেন, তিনি আমাকে ১টি টিকেটের জন্য থাকতে বলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান এমন লোক প্রতিদিনই রাখে টিকেট কউন্টারের বুকিং সহকারী ডালিম, নজরুল, ইমরান ও তোরাব। এরা প্রতিনিয়ত টাকার বিনিময়ে লোক রেখে পরে টিকেট বেশি দামে কালোবাজারি করে বিক্রি করে। ডালিম রেলওয়ের কর্মচারী ও তোরাব সিএনএস কোম্পানির লোক, নজরুল সাবেক বুকিং সহকারী আর ইমরান বর্হিগত। তারপরও প্রতিনিয়ত তারা কাউন্টারে বসে টিকেট দিচ্ছে যাত্রীদের। আর কালেবাজারি তো করছেই। এই কারণে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকে টিকেট না পেয়েই বাড়ি ফিরছে। এ বিষয়ে বুকিং সহকারী ডালিম জানান বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছিলাম উর্দ্ধতন উপসহকারী প্রকৗশলী কার্য অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী তুহিনের নির্দেশে। এ বিষয়ে তুহিন জানান, আমি কিছু জানিই না। স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী আব্দুস সামাদ জানান আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো। স্টেশন মাস্টার আনোয়ার সাদাত জানান, আমি এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের জন্য ববস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে জানিয়েছি।


আরো দেখুন

ঝিনাইদহের হরিণাকু-ুতে আবারও দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু ধর্ষিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের হরিণাকু-ুতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়–য়া ৮ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ …

Loading Facebook Comments ...