দামুড়হুদার রামনগরে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অপচেষ্টা : সালিসের নামে ধাপাচাপা দেয়ার চেষ্টা

দামুড়হুদা/জুড়ানপুর প্রতিনিধি: দামুড়হুদায় রাতে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হেনা (৩২) নামের এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত প্রতিবেশী দু সন্তানের জনক জিয়াকে ঘটনার সময় হাতে নাতে পাকড়াও করা হলেও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় সে। জিয়া এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসার নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূ হেনা দামুড়হুদা থানায় গিয়ে এজেহার দায়ের করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন গৃহবধু হেনা। থানায় মামলা না নেয়ায় গতকাল সোমবার আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন গৃহবধূ হেনা। গত ৬ জুন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গৃবধূর স্বামীর বাড়িতে ওই ধর্ষণ অপচেষ্টার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের রামনগর ক্লাবপাড়ার শরীফ উদ্দিনের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী হেনা খাতুন (৩২) গত ৬ জুন নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী কুরবান আলী ওরফে কুড়োনের ছেলে রামনগর বড় মসজিদের সভাপতি দুই সন্তানের জনক জিয়া (৩৮) গৃহবধূ হেনার ঘরে ঢোকে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় গৃহবধূ হেনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং অভিযুক্ত জিয়াকে হাতে নাতে পাকড়াও করলেও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পালিয়ে যায় জিয়া।
গৃহবধূ হেনা নিজের সম্মানের কথা ভেবে বিষয়টি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মিমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্ত জিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় গ্রাম্য সালিসের নামে গড়িমসি করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায় জিয়া। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ হেনা দামুড়হুদা থানায় হাজির হয়ে এজাহার করতে চাইলে মামলা না নিয়ে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। ওই গৃহবধূর অভিযোগ, ‘পুলিশ বলেছে মামলা নেয়া যাবে না। ওপরের চাপ আছে। আপনারা আদালতে যান।’ গৃহবধূ ন্যায় বিচারের আশায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
ঘটনার ৫ দিনের মাথায় অবশেষে গতকাল সোমবার আদালতের আশ্রয় নেন অসহায় গৃহবধূ হেনা। এদিকে অভিযুক্ত জিয়া নিজের দোষ এড়াতে আগে থেকেই দামুড়হুদা মডেল থানায় অভিযোগকারী হেনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জুড়ানপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, ঘটনা সত্য। মহিলা নিজের সম্মানের কথা ভেবে প্রথমে চুপ থাকতে চাইলেও বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে চলেছে অভিযুক্ত জিয়া। অসহায় গৃহবধূ যেন সঠিক বিচার পান সেই আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এলাকাবাসী বলেছেন, অভিযুক্ত জিয়া মসজিদ কমিটির সভাপতি। সে নিজে বিচার করে বেড়ান। তার বিচার করবে কে? তবে ঘটনাটি অবশ্যই নেক্কারজনক। অভিযুক্ত জিয়ার বিচার হওয়া উচিত।


আরো দেখুন

ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে মহেশপুরে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত

মহেশপুর প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের মহেশপুর ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে থানা পুলিশের …

Loading Facebook Comments ...