ক্রিকেটের এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে

ক্রিকেটের ইতিহাস গড়া মেয়েদের অভিনন্দন। ঈদের আগেই ঈদের আনন্দ। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এশিয়ার সেরা এখন বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের কোনো সাফল্য এলো মেয়েদের হাত ধরে। রচিত হলো নতুন এক ইতিহাস। ক্রিকেট পরাশক্তি ভারতকে হারিয়ে মেয়েদের এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির নতুন চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে রবিবারের ম্যাচে শুরু থেকেই ভারতকে চাপের মুখে রেখেছিলো বাংলাদেশের মেয়েরা। উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় নানা চড়াই-উতরাই আর রোমাঞ্চকর নাটকীয়তার পর শেষ বলে এসে ধরা দেয় কাঙ্ক্ষিত জয়। এই মালয়েশিয়ায়ই ২১ বছর আগে আইসিসি ট্রফি জিতে নতুন উচ্চতায় উঠেছিলো বাংলাদেশের ক্রিকেট। সেই মালয়েশিয়ায়ই নতুন ইতিহাসের জন্ম হলো। লক্ষ্য ছিলো ফাইনাল, ধরা দিল আরো বড় সাফল্য। মেয়েদের ক্রিকেটে এত দিন রাজত্ব করে আসা ভারতকে হারিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের আনন্দ উদ্যাপন তাই একেবারেই অন্য রকম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ শিরোপার কাছ থেকে ফিরেছে। দুটি এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশের ছেলেরা। খেলেছে তিনটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালও। ট্রফি জেতা হয়নি একবারও।

মেয়েদের ক্রিকেটে সাফল্য তো আরো কম। অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েদের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। আইসিসি মেয়েদের ক্রিকেটে জোর দেয়ায় বিসিবিও মেয়েদের ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে ২০০৬-০৭ সাল থেকে। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব চলাকালে দেশের মেয়েরা পায় ওয়ানডে স্ট্যাটাস। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় পায় ২০১২ সালে। জয়ে যাত্রা শুরু হলেও তা নিয়মিত হয়নি। মেয়েদের ক্রিকেটকে বরাবরই অবহেলার চোখে দেখা হয়েছে। অনেক সময় নিয়মিত খেলাও ছিলো না। হতাশার সঙ্গেই বলতে হয়, মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে খুব বেশি ভাবা হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি দায়সারা। আছে মাঠের সংকট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সুনির্দিষ্ট কোনো সূচি নেই। ট্রেনিং,ক্যাম্প,অনুশীলনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়। জাতীয় লিগে মাত্র ৬০০ টাকা ম্যাচ ফি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও তা বাড়েনি। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা মেয়ে ক্রিকেটারদের বেতনও উল্লেখ করার মতো নয়। পারিবারিক বাধা, সামাজিকতার চোখরাঙানি, শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা সব মিলিয়ে এক কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মেয়েরা।

এবারের টুর্নামেন্টের শুরু কিন্তু ভালো ছিলো না। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে পাত্তাও পায়নি বাংলাদেশ। বিস্ময়কর পালাবদল ঘটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় ফিরে আসা। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে পরাজিত ভারতের মেয়েরা। পরের দুই ম্যাচে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াকে গুঁড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। ফাইনালে স্বপ্নপূরণ। স্নায়ু নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যাটিং-বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে গড়া হলো ইতিহাস। এখন এই সাফল্য ধরে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে বিসিবিকে।


আরো দেখুন

সব আতঙ্ক দূরে ঠেলে ঈদ উৎসব হোক সকলের জন্য নিরাপদ পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। কর্মসূচিতে দূরে থাকা আপনজন নাড়ির টানে আপনজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার মানসে মত্ত মানুষ ছুটছেন আপন ঠিকানায়। ঈদের নতুন পোশাক কেনারও ধুম পড়েছে বিপণী বিতানগুলোতে। হাট বাজার রাস্তাঘাটে বেড়েই চলেছে ভিড়। জাকাতের শাড়ি কাপড় টাকা পাওয়ার আশায় দরিদ্রদের ছোটাছুটিও কম নয়। এর মাঝে অপরাধীদের অপতৎপরতাও বেড়ে যায় কয়েকগুন। তবে কয়েক বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে উৎসবের আমেজে উল্লেখযোগ্য ছেদ লক্ষ্য করা যায়নি। এবারও পুলিশের বাড়তি তৎপরতা সকলের জন্য ঈদের আনন্দ নিরাপদ হবে বলেই প্রত্যাশা। ইসলাম ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় এ উৎসবে সব চেয়ে বেদনার যে ছবি ফি বছর ফিরে আসে তা হলো পরিবহন বিড়ম্বনা। ঈদের আগে বড় শহর থেকে ছোট শহরে ফেরার সময় শুধু দূরপাল্লার কোচগুলো বাড়তি ভাড়াই আদায় করে না, বাড়তি টিপের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। ঈদের পর কর্মমুখী মানুষগুলোকে আবারও অভিন্ন ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় বের হতে হয়। যাত্রীর ভিড়ে ঠাসাঠাসির শত কষ্টও মøান হয়ে যায় যদি ঈদের আনন্দ নিরাপদ হয়। বকশিসের নামে এক ধরনের চাঁদাবাজি যেমন আপন ঠিকানায় ফেরা মানুষগুলোকে তটস্ত করে তোলে, তেমনই উঠতি বয়সীদের অর্থলিপ্সুতা বিপথগামীও করে। চুরি ডাকাতি ছিনতাই? পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি গ্রাম জনপদের সাধারণ মানুষের সজাগ অবস্থান এখনও পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক। ঈদের কেনাকাটার ভিড়ে বিপণী বিতানের দোকানিদের একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন দরকার। বিশেষ করে টাকা লেনদেনের সময় তা ভালো করে দেখে নেয়াই উত্তম। মনে রাখতে হবে জালটাকাকারবারিরা আশে পাশেই ঘুরছে। সুযোগ বুঝেই গছিয়ে দেবে। ভিড় সামলাতে ট্রাফিক পুলিশের বাড়তি দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। চুয়াডাঙ্গায় এখনও পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তেমন প্রশ্ন ওঠেনি। তবে সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা এখন খুবই জরুরি। রাতদিন সমান তালে যখন দূরপাল্লার পরিবহন আসা যাওয়া করবে তখন অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকেই এ আতঙ্ক। তবে সব আতঙ্ক দূরে ঠেলে ঈদ উৎসব হোক সকলের জন্য নিরাপদ।

সব আতঙ্ক দূরে ঠেলে ঈদ উৎসব হোক সকলের জন্য নিরাপদ পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। আর …

Loading Facebook Comments ...