অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে উদোগ গ্রহণ করতে হবে

দেশের আরও ১৬টি জেলায় নতুন পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণের উদ্যোগ স্বভাবতই সাধুবাদ পাবে। পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা বিকেন্দ্রীকরণের তাগিদ এই সম্পাদকীয় কলামেই আমরা অনেকবার দিয়েছি। আমাদের মনে আছে, ২০১০ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৫টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় ছিলো। বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় তা অপ্রতুল ছিলো, বলা বাহুল্য। সেখান থেকে বর্তমানে ৬৪ জেলাসহ মোট ৬৭ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংখ্যাগত দিক থেকে যে বড় ধরনের উল্লম্ম্ফন, স্বীকার করতেই হবে। শুধু দফতর প্রতিষ্ঠা নয়, আলোচ্য ১৬টি জেলায় অফিস ভবন নির্মাণের মধ্যদিয়ে সব পাসপোর্ট কার্যালয় নিজস্ব ভবনে যাওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে এবং ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। বস্তুত এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে এই অবকাঠামোগত অগ্রগতি বাংলাদেশের মতো দেশে নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়। অস্বীকার করা যাবে না যে, বর্তমান সরকার পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে গুণগত বেশ কিছু পরিবর্তনও এনেছে। যন্ত্র পাঠযোগ্য পাসপোর্টের পর এখন ডিজিটাল পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু সংখ্যা ও অবকাঠামোগত দিকের সাথে গুণগত দিক পাল্লা দিতে পারছে কি? এখনও অনেক পাসপোর্ট অফিস থেকে দালালচক্র সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব হয়নি। নতুন পাসপোর্ট তৈরি বা পুরাতনটি নবায়নের ক্ষেত্রে এখনও দীর্ঘসূত্রতা যথেষ্ট। রয়েছে অহেতুক হয়রানিও। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকরা পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে অপরিমিত দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়। এটা ঠিক, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ যেসব অঞ্চলে প্রবাসী বাংলাদেশির হার বেশি, সেখানে দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটের পক্ষে এত পাসপোর্ট নবায়নের চাহিদা সামাল দেয়া কঠিনই বটে। এ ক্ষেত্রে আমরা পরামর্শ দেব ‘আউটসোর্স’ করার। জনবলের ঘাটতির কারণে নাগরিকরা দুর্ভোগ ও হয়রানিতে পড়তে পারে না। দেশের অভ্যন্তরেও নতুন পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে হয়রানি বা বিড়ম্বনার অভিযোগ পুরনো। বিশেষ করে পুলিশি তদন্তে বা ভেরিফিকেশনে অনিয়ম ও দুর্নীতি তো অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’। অথচ পাসপোর্টে পুলিশি তদন্তে অনিয়ম বা হয়রানি নিছক সুশাসনের প্রশ্ন নয়। বরং এর সাথে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটিও বিবেচনা করতে হবে। পাসপোর্ট প্রার্থীর ব্যাপারে তদন্তে যখন অর্থের লেনদেন হয়, তখন তার ব্যাপারে নামমাত্র খোঁজখবর নিয়েই প্রতিবেদন দেয়া হয়ে থাকে। প্রার্থীকে নিজের কাছে ডেকে কিংবা টেলিফোনে কথা বলে, এমনকি কোনো খোঁজখবর না নিয়ে কেবল অর্থের বিনিময়ে প্রতিবেদন তৈরির নজিরও আমাদের দেশে বিরল নয়। এভাবে অনুপযুক্ত ব্যক্তির পাসপোর্ট পেয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তৈরি হয় বেনামি পাসপোর্ট তৈরি হওয়ারও। এতে করে জঙ্গিবাদসহ সমাজবিরোধীদের যেমন সুবিধা করে দেয়া হয়, তেমনই সুযোগ তৈরি হয় মানব পাচারের। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেবার মান বেড়েছে। কমেনি হয়রানি, দুর্ভোগ ও দুর্নীতি। অবকাঠামোর আধুনিকায়নের সাথে ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না হলে, নতুন ভবনগুলো জেলা শহরের দিগন্তরেখা বদলে দেয়া ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না।


আরো দেখুন

বাস্তবায়নে গড়িমসি মোটেই কাম্য নয়

  সরকার যখন এবারের বাজেটে ইন্টারনেটের ভ্যাট পুনঃনির্ধারণ করে, তখন আমরা সাধুবাদ জানিয়ে ছিলাম। তার …

Loading Facebook Comments ...