প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বাধ্য করতে হবে

 

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হতে চলেছে। এ জন্য প্রয়োজন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। সামনে রয়েছে এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। এসব লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগ বাড়ানো তথা শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে দেশের ব্যাংকিং খাত। তারা উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ জুগিয়ে দেশে শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে। সহজ শর্তের ঋণ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধিও অনেক বাড়িয়ে দেয়। সেটিও শিল্পায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বাস্তবতা সেই ধারণার অনুকূল নয়। এর বড় কারণ, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার। ১৫ শতাংশ বা এর চেয়ে বেশি সুদে ঋণ নিয়ে কোনো লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। এ কারণে ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা অনেক দিন ধরেই ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে বা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি করে আসছিলেন। সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকও অনেক দিন ধরেই সে চেষ্টা করছিলো। কিন্তু ব্যাংকগুলো কোনোভাবেই ঋণের সুদহার কমায়নি। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দেন। বাজেটে করপোরেট কর কমানোসহ ব্যাংকগুলোকে বেশ কিছু সুবিধা দেয়া হয়। সরকারি অর্থ কম সুদে বেসরকারি ব্যাংকে গচ্ছিত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা নগদ সংরক্ষণ অনুপাত কমিয়ে তাদের মূলধনের জোগান বাড়ানো হয়েছে। অবশেষে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি জানায়, ১ জুলাই থেকে সব ধরনের ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নেমে আসবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক বেসরকারি ব্যাংকই তা করেনি। বরং কোনো কোনো ব্যাংক নতুন করে যে সার্কুলার জারি করেছে, তাতে দেখা যায় সুদের হার আগের মতোই রয়েছে। সব সুবিধা নিয়েও প্রতিশ্রুতি না রাখার এমন নজির কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে না আনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মূলত চারটি ব্যাংক। এগুলো হলো, এবি ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। আবার কয়েকটি ব্যাংক মাঝামাঝি অবস্থানে আছে। তারা সুদের হার কিছুটা কমালেও এক অঙ্কে নামায়নি। এ অবস্থায় যারা এক অঙ্কে নামিয়েছে কিংবা নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারাও সেটি ধরে রাখতে পারবে না। প্রাইম ও সিটি ব্যাংক আমানতের জন্যই ৯.৫০ শতাংশ সুদ প্রস্তাব করেছে। যেসব ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে, সেসব ব্যাংক ৬ শতাংশের বেশি সুদ দিতে পারবে না। ফলে তারা আমানত পাবে না। তখন তারাও বাধ্য হবে ঋণের সুদহার বাড়িয়ে আমানতের সুদহার বাড়াতে। তাহলে দেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কী হবে? বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে চলমান এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করতে হবে। অভিন্ন নীতিকৌশল মেনে চলতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করতে হবে। আমরা আশা করি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তাদের সক্ষমতা রক্ষায় ঋণের সুদহার অবশ্যই যৌক্তিক করা হবে।


আরো দেখুন

বাস্তবায়নে গড়িমসি মোটেই কাম্য নয়

  সরকার যখন এবারের বাজেটে ইন্টারনেটের ভ্যাট পুনঃনির্ধারণ করে, তখন আমরা সাধুবাদ জানিয়ে ছিলাম। তার …

Loading Facebook Comments ...