কোটা সংস্কারের বিষয়টি সমাধান হওয়া দরকার

 

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী স্টাডিস বিভাগের ছাত্র তরিকুল ইসলাম। তার একটি পা ভেঙে গেছে। চাপের মুখে তাকে রাজশাহী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিদায় করে দেয়া হয়েছে। তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে, এমন অভিমত দিয়েছেন কোনো কোনো চিকিৎসক। বাধ্য হয়ে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাকে যে তরুণটি প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা যায়নি। রমজান ও গ্রীষ্মের ছুটির পর বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোক্তা সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ফের আন্দোলন সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয়। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে সুপারিশ উপস্থাপনের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছে। মাস ছয়েকের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে কোনো কোনো মহল দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে, এমন অভিমতও রয়েছে এবং তা অমূলক না-ও হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা রাজনৈতিকভাবেই করতে হয় এবং তার কৌশল আওয়ামী লীগের মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ও তাদের পরিচালিত সরকারের জানা আছে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এ পথে না গিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলাকে শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন কেউ সমর্থন করতে পারে না। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয় আন্দোলনকারীরা। ছাত্রীরাও নিগৃহীত হয়েছে। এসব হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন দু’জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। আমাদের স্মরণে থাকার কথা, কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিলো ব্যাপক। এক্ষেত্রে আবেগ কাজ করতে পারে। সরকার দাবির যৌক্তিকতা শিকার করে নিয়েছে। তবে ইস্যুটি দীর্ঘকাল ধরেই আলোচনায় এবং জটিলতাও রয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি কী সুপারিশ করে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেজন্য কিছুদিন অপেক্ষা করা যেতেই পারে। বল প্রয়োগে আন্দোলন থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা যেমন কাঙ্ক্ষিত নয়, তেমনি মানবিক মূল্যবোধও সমুন্নত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সবাইকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কোটা সংস্কারের বিষয়টির সমাধান এবং যত দ্রুত তা করা যায়, ততোই মঙ্গল।


আরো দেখুন

বাস্তবায়নে গড়িমসি মোটেই কাম্য নয়

  সরকার যখন এবারের বাজেটে ইন্টারনেটের ভ্যাট পুনঃনির্ধারণ করে, তখন আমরা সাধুবাদ জানিয়ে ছিলাম। তার …

Loading Facebook Comments ...