মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২৫ , ২০১৮

গাংনীতে আবারও বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গৃহবধূ

গাংনী প্রতিনিধি: মেহেরপুর গাংনী উপজেলার চরগোয়ালগ্রামের জিনারুল ইসলামের সাথে দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ের দাবিতে গতকাল সোমবার সকাল থেকে অনশন শুরু করেছে তার প্রেমিকা একই গ্রামের গৃহবধূ লাবনী খাতুন (৩২)। স্বামী সংসার ছেড়ে বারবার জিনারুলের প্রলোভনে পা দিয়ে এখন উভয়কূল হারাতে বসেছেন গৃহবধূ। এ নিয়ে এলাকায় মুখরোচক সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, চরগোয়ালগ্রামের কৃষক আজম আলীর সাথে প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয় মহাম্মদপুর গ্রামের ইয়াকুব হোসেনের মেয়ে লাবনী খাতুনের। দাম্পত্য জীবনে তাদের রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। আড়াই বছর আগে প্রতিবেশী আবুল সর্দ্দারের ছেলে কৃষক জিনারুল ইসলামের সাথে লাবনীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক হয়। জিনারুল দুই সন্তানের জনক।
জানা গেছে, মাস চারেক আগে বিয়ের প্রলোভনে জিনারুল তাকে নিয়ে কুষ্টিয়া এলাকায় যায়। বিয়েও করে। চারদিন পর গ্রামে ফিরে ডিভোর্স দেয়। স্থানীয়ভাবে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে মিমাংসা হয়। মাসখানেক পিতার বাড়িতে বসবাসের পর প্রথম স্বামী আজম আলীর সংসারে ফিরে যায়। তবে জিনারুলের সাথে পিরিত ভাঙেনি। লাবনীর সাথে নির্বিঘেœ চুটিয়ে পরকীয়া করতে মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড কিনে দেয় জিনারুল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়েই জিনারুলের সাথে বিয়ে করে লাবনী। জিনারুল ডিভোর্স দিলে আবারও আজমের সংসারে ফিরে গেলেও তাদের বিয়ে হয়নি। যা আইনগতভাবে বৈধ নয়। তবুও স্ত্রী হিসেবেই লাবনীকে মেনে নিয়েছিলেন আজম। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন সইনি। গেলো ২ জুলাই বিকেলে জিনারুলের হাত ধরে লাবনী আবারও অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। এক পর্যায়ে পীরতলা গ্রামের ক্যাম্পপাড়ার আশাদুল ইসলামের বাড়িতে গোপনে অবস্থান নেয়। সেখানে প্রথম স্বামী আজমকে তালাক দিতে কাগজপত্রে সই করিয়ে নেয় জিনারুল। শুক্রবার ওই বাড়ি থেকে লাবনীকে আটক করে পীরতলা পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল। পরে পুলিশ তাকে পরিবারের লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
গৃহবধূ লাবনী জানান, জোরপূর্বক প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ালেও জিনারুল আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়নি। বিভিন্ন প্রকার টালবাহনা করার পর আমি পিতার বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। প্রথম স্বামীও আমাকে ঘরে তুলে নিচ্ছে না। তাই নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর দাবি নিয়ে জিনারুলের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাবনী অবস্থান নেয়ার পর থেকেই আত্মগোপন করেছে জিনারুল। গতরাত দশটার দিকে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত লাবনী জিনারুলের বাড়িতেই অবস্থান করছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।


আরো দেখুন

আমঝুপিতে অভিযাত্রা প্রকল্পের ফলাফল নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

আমঝুপি প্রতিনিধি: প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়ারোধ, শিশুদের মধ্যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার উন্নয়ন, কর্মকেন্দ্রিক ও …

Loading Facebook Comments ...