গাংনীতে কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে জিম্মি করে ধর্ষণ

গাংনী প্রতিনিধি: কলেজছাত্রীকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভনে দুই দিন জিম্মি করে ধর্ষণের ঘটনায় ফেঁসে গেছে মেহেরপুর গাংনীর বাহাগুন্দা গ্রামের আলোচিত রাফিজুল ওরফে লাল মিয়া (৩০)। গতকাল সোমবার ভোরে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার ও রাফিজুলের চাচাতো বোন কাকলী খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত রাফিজুল ও তার চাচী। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে এক ছাত্রীকে ধর্ষণে সহায়তা ও ভিডিও ধারনের অভিযোগে রাফিজুলের নামে মামলা রয়েছে। অভিযুক্ত রাফিজুল ইসলাম ওরফে লাল মিয়া বাহগুন্দা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। এলাকায় সে কথিত সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের এক কলেজছাত্রীর সাথে রাফিজুল প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিবাহিত ও ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন করে ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। বিয়ের প্রলোভনে দুই দিন আগে রাফিজুল ওরফে লাল মিয়া চুয়াডাঙ্গা থেকে কলেজছাত্রীকে নিয়ে আসে। চাচা আবুল কালামের বাড়ির একটি ঘরে ছাত্রীকে রেখে চাচী ও চাচাতো বোনের সহায়তায় সেখানে তাকে জিম্মি করে দুই দিন ধরে ধর্ষণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে গাংনী থানা পুলিশ কালামের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লাল মিয়া পালিয়ে যায়। সেখান থেকে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার ও লাল মিয়ার চাচাতো বোন কাকলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গাংনী থানার ওসি তদন্ত সাজেদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদি হয়ে গতকালই গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন (দমন) আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপহরণ পূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় রাফিজুল প্রধান আসামি এবং এতে সহায়তার জন্য তার চাচি ও চাচাতো বোনকে আসামি করা হয়েছে। ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য গতকাল মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু কাগজপত্র প্রস্তুত হতে সময় না থাকায় আজ ডাক্তারী পরীক্ষা হবে। কলেজছাত্রীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন (দমন) আইনের ২২ ধারায় ভুক্তভোগী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিজ্ঞ বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি কাকলীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী জানায়, দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গায় রাফিজুল ওরফে লাল মিয়ার সাথে তার পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক হয়। স্বনামধন্য সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। মোবাইলে তাদের মধ্যে নিয়মিত প্রেমালাপ চলতো। ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক পরিচয় গোপন রেখে সে অবিবাহিত বলে দাবি করে আসছিলো। বাড়ির পরিচয় বলেছিলো মেহেরপুর শহরে। লাল মিয়ার চাচার বাড়িতে রাখার সময়ও সে বুঝতে পারেনি অভিযুক্ত প্রতারকের আসল পরিচয়। পুলিশের অভিযানের পরই সে জানতে পারে প্রেম নয়, ফাঁদে ফেলা হয়েছে তাকে।
মামলার বাদি কলেজছাত্রীর মা বলেন, আমরা গরিব অসহায়। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে রাফিজুল তার মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। এই অভিযুক্ত প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দাবি করেন তিনি।
গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, রাফিজুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আগেও একটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বাদিপক্ষ যাতে সুবিচার পান সে বিষয়ে পুলিশের যা যা করণীয় তাই করা হবে।


আরো দেখুন

আলমডাঙ্গার সাব রেজিস্টারকে অপসারণের দাবিতে দলিল লেখক সমিতি নিকট কলম বিরতি ও স্মারকলিপি প্রদান

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গার সাব রেজিস্টারকে অপসারণের দাবিতে দলিল লেখক সমিতি নিকট কলম বিরতি ও স্মারকলিপি …

Loading Facebook Comments ...