মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২৫ , ২০১৮

দর্শনা মোহাম্মদপুরের জাকির মিস্ত্রির মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত

লাশ চুরির আশঙ্কায় পাহারা ॥ স্ত্রী বর্ষাকে রিমান্ডের আবেদন
দর্শনা অফিস/কুড়–লগাছি প্রতিনিধি: দর্শনা মোহাম্মদপুরের মোটরসাইকেল মিস্ত্রি জাকিরের মৃত্যুরহস্য এখনও উন্মোচন হয়নি। রহস্যের জট খুলতে তদন্ত শুরু করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। জাকিরের লাশ চুরির আশঙ্কায় গোরস্তানে পাহারার ব্যবস্থা করেছে পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্ত স্ত্রী বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেছেন ইন্সপেক্টর ইউনুচ আলী। আবারও ময়নাতদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন জাকিরের বাবা লাল মোহাম্মদ। মুমূর্ষু জাকিরকে বাঁচাতে সহযোগিতা করতে গিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন ৩ যুবক? গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে দর্শনা পৌর শহরের মোহাম্মদপুরের ইছাহাক আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া এলাকার সকলের পরিচিত মোটরসাইকেল মিস্ত্রি জাকির হোসেনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে দর্শনার দুটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। ক্লিনিক দুটিতে কোনো চিকিৎসক না থাকায় মাইক্রোবাসযোগে দ্রুত নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকিরকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। জাকিরের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় নিজ গ্রামের বাড়ি দামুড়হুদার কুড়ুলগাছি স্কুলপাড়ায় দাফন সম্পন্ন করা হয়। প্রথম দফার ময়নাতদন্ত সন্তোষজনক হয়নি বলে দাবি তুলে পুনরায় জাকিরের ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আমলি আদালতে আবেদন করেছেন লাল মোহাম্মদ। এ ছাড়া জাকিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বর্ষা খাতুনসহ ৬ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন লাল মোহাম্মদ। জাকিরের মৃত্যুর পর থেকেই স্ত্রী বর্ষার বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছোড়া হয়। বর্ষার একাধিক ছেলের সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ও ৫ লাখ টাকা নিয়ে জাকিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা দায়ের ও পুনরায় লাশ ময়নাতদন্তের খবর ছড়িয়ে পরলে বর্ষার পরকীয়া প্রেমিকসহ তার পরিবারের লোকজন লাশ চুরি করতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে এলাকায়। এ গুঞ্জনে কান দিয়ে জাকিরের পরিবারের সদস্যরা পালাক্রমে গোরস্তানে লাশ পাহারা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ বলেছেন, ঘটনার দিন জাকিরের বাড়ি থেকে কান্না-কাটির চিৎকারে মহল্লার অনেকেই ছুটে যায় জাকিরের বাড়িতে। অনেকের মধ্যে ছিলেন, হারুন অর রশিদের ছেলে আমিনুল ও আজিজ ড্রাইভারের ছেলে সুমন। জাকিরকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়াটাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া মনির ফরম্যানের ছেলে মামুন ঘটনার আগের দিন থেকে টানা ৪ দিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণে থাকলে সুমন ও আমিনুলের সাথে তাকে আসামি করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ মামলায় জাকিরের স্ত্রী, শাশুরী ও শ্যালিকাসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত পূর্বক মহল্লার ৩ যুবককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি তুলেছে মহল্লাবাসী।


আরো দেখুন

সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণের আবেদন অক্টোবরে

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে গৃহঋণ পেতে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে অনলাইনে …

Loading Facebook Comments ...