দামুড়হুদায় গর্তের পানিতে ডুবে স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

দামুড়হুদা প্রতিনিধি: আপনার শিশুকে সাঁতার শেখান। নাচ-গানের পাশাপাশি বাঁচতে হলে অন্তত পক্ষে ভেলা ধরে হলেও ভাসতে শেখান। এ রকম একাধিক প্রতিবেদন দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় ছাপা হলেও বিষয়টি আমলে না নিয়ে গড্ডালিকায় গা ভাসিয়েছেন অনেকেই। কবে ভাঙবে ওই সমস্ত অভিভাবকদের কুম্ভঘুম। না কী সাঁতার না জানার কারণে অতশির মতো আরও অনেক শিশুকেই ঝরে যেতে হবে অকালে। এ প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরে উকি দিচ্ছে অনেকের মনে।
দামুড়হুদায় সাঁতার না জানার কারণে অকালে ঝরে গেছে অতশি (১০) নামের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠ সংলগ্ন দশমী ঈদগাহ ময়দানের গর্তের পানিতে ডুবে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত স্কুলছাত্রী ছাতিয়ানতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দামুড়হুদা গুলশানপাড়ার ভাড়াটিয়া ভগিরথপুর গ্রামের আশরাফুজ্জামান বাবুর বড় মেয়ে। আজ শুক্রবার সকাল ৮ টায় সময় ভগিরথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে (দাদার কবরের পাশেই) দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছন পরিবারের লোকজন।
জানা গেছে, ছাতিয়ানতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দামুড়হুদা গুলশানপাড়ার ভাড়াটিয়া ভগিরথপুর গ্রামের মৃত ফজলুর রহমান মাস্টারের ছেলে আশরাফুজ্জামান বাবুর বড় মেয়ে অতশি (১০), ছোট মেয়ে অরনি (৮) এবং প্রতিবেশী গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুসের মেয়ে রুহা (৭) গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠ সংলগ্ন দশমী ঈদগাহ ময়দানের পানি ভর্তি গর্তের পাশে খেলা করছিলো। খেলা করাকালীন পানি ভর্তি গর্তে অতশির মাথার ব্যান্ড পড়ে যায়। সে গর্তের পানিতে নেমে মাথার ব্যান্ড তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। সে পানিতে ডুবে গেলেও বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেনি তার সাথে থাকা অপর দু শিশু অরণি ও রুহা। তারা একে অপরকে বলতে থাকে অতশি কেমন করছে। তারা পানিতে নামারও চেষ্টা করে। কিন্ত তারাও সাঁতার জানে না। বিধায় ভয়ে তারা পানিতে নামেনি। বিকেল সাড়ে ৬ টার দিকে যখন অতশির লাশ ভেসে ওঠে তখন দু শিশু অরণি ও রুহা স্টেডিয়ামে হাটতে থাকা স্টুডিও ফটো পার্কের স্বত্ত্বাধিকারী তাছির আহমেদকে জানায়। তাছির আহমেদ দ্রুত ছুটে গিয়ে পানিতে নেমে অতশিকে তুলে আনেন। তার বুকে চাপ দিয়ে পানি বের করে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান তিনি। কিন্ত সব চেষ্টা বিফলে চলে যায়। অতশি সকলকে কাঁদিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। তাছির আহমেদ বলেন, আমাকে বলার সাথে সাথে আমি ছুটে গিয়ে মেয়েটিকে পানি থেকে তুলে বাঁচানোর চেষ্টা করি। তার বুকে বেশ কয়েকবার চাপ দেয়া হয়। কিন্ত শেষ রক্ষা করতে পারিনি। অতশির মৃত্যুর খবর পেয়ে স্টেডিয়াম মাঠে ছুটে যান মা লাভলী খাতুন, পিতা আশরাফুজ্জামান বাবুসহ স্বজনেরা। তাদের কাঁন্না আর আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। উপস্থিত সকলের চোখ ছিলো বেদনার অশ্রুতে ভেজা। নিহত স্কুলছাত্রী অতশির লাশ গুলশানপাড়াস্থ বাসায় নেয়ার পর শ’ শ’ নারী-পুরুষ তাকে শেষ বারের মতো এক নজর দেখতে ছুটে আসেন। রাত ৯ টার দিকে নিহতের লাশ গ্রামের বাড়ি ভগিরথপুরে নেয়া হয়। নিহত স্কুলছাত্রী অতশি ছিলো দু বোনের মধ্যে বড়। সে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির একজন নিয়মিত শিশু শিল্পি ছিলো। এদিকে এলাকার বেশকিছু সচেতন অভিভাবক বলেন, আমরা আমাদের সন্তানকে পড়া-লেখার পাশাপাশি নাচ-গান শেখানোটাই প্রয়োজন মনে করি। নাচ-গানের পাশাপাশি সাঁতার শেখানোটাও যে অনেক বেশী জরুরি তা আমরা অনেকেই ভুলে যায়। তাই আর অবহেলা নয়। এখন থেকে প্রতিটি শিশুকে সাঁতার শেখাবো এই হোক আমাদের অঙ্গিকার।


আরো দেখুন

চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগকালে আলী আজগার টগর এমপি

চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দিন বেগমপুর প্রতিনিধি: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে …

Loading Facebook Comments ...