আসন্ন জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে নির্বাচনী হালচাল

 

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আ.লীগের-৯ বিএনপির-৪ জামায়াত-১ ও জাতীয় পার্টির-২

দর্শনা অফিস: জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০১৯ সালের শুরুতেই। দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ না হলেও নির্বাচনের বাকি রয়েছে ৫ মাস। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা-২ নির্বাচনী এলাকায় পরপর ২ বার নির্বাচিত হন আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী হাজি আলী আজগার টগর। সে হিসেব মতো বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল ৪ বছর ৭ মাস পেরিয়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনমত সৃস্টির জন্যে ছুটছেন শহর ও গ্রামগঞ্জে। করছেন সভা-সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগসহ কুশল বিনিময়। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দলের তুলনায় ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সংখ্যা রয়েছে বেশী। একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় কদর বাড়ছে তৃর্ণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। জাতীয় দিবস, ঈদ-পূজা ও বিশেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছবি সংবলিত দৃষ্টি নন্দন তোরণ, রং-বেরংয়ের বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার সাটিয়ে প্রার্থীতা জানান দেয়া হয়েছে। বেশ আগেভাগেই নির্বাচনের মাঠ চষতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের ৯, বিএনপির ৪, জামায়াতে ইসলামীর ১ ও জাতীয়পার্টির ২ জন। আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের পরপর ২ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য চুয়াডাঙ্গা জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি হাজি আলী আজগার টগর, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযাদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, জীবননগর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা, দর্শনা পৌর মেয়র পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি নজরুল মল্লি­­ক, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক আমার সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক হাসেম রেজা, বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু কিশোর মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সাদিকুর রহমান বকুল ও সকালের খবরের সম্পাদক নুর হাকিম। এমপি আলী আজগার টগর নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করে রেখেছেন। জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ প্রবীণ নেতা হিসেবে এলাকায় রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে এলাকার উন্নয়নের মধ্যদিয়ে নিজের পরিচিতি ও অবস্থান আরও শক্ত করেছেন মাহফুজুর রহমান মঞ্জু। দর্শনা পৌরসভায় ৩ বার মেয়র নির্বাচিত হয়ে জনপ্রিয়তার সাক্ষর রেখেছেন মতিয়ার রহমান। শিল্পপতি নজরুল মল্লি­ক সম্প্রতি সময়ে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। কয়েকবার হেলিকপ্টারযোগে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসে চমক সৃষ্টি করেছেন হাসেম রেজা। আগামী নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন গোলাম মর্তূজা। হঠাৎ করেই নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন আলহাজ সাদিকুর রহমান বকুল ও নুর হাকিম। সম্প্রতি আ.লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের দেখা যাচ্ছে ঢাকামুখী। দলের নীতিনির্ধারকদের নজরে পড়তে অনেকেই পড়ে আছেন ঢাকাতে। বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী ৪ জনের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক শিল্পপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য হাজি ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান তরফদার টিপু, সাবেক ৩ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রায়ত হাজি মোজাম্মেল হকের ছেলে জেলা বিএনপির সদস্য শিল্পপতি আতিকুল হক মিথুন ও দর্শনা পৌর বিএনপির সভাপতি তরুণ শিল্পপতি মাহমুদুর রহমান তরফদার শাওন। এলাকার মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদানের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমে নিজের অবস্থান মজবুত করে রেখেছেন মাহমুদ হাসান খান বাবু। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান ও নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নিজের পরিচিতি তুলে ধরেছেন ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান তরফদার টিপু। সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজি মোজাম্মেল হকের ছেলে হিসেবে আতিকুল হক মিথুনের পরিচয়ের নেই ঘাটতি। তরুণ সমাজ সেবক ও উদীয়মান শিল্পপতি মাহমুদুর রহমান তরফতার শাওন দর্শনা পৌর বিএনপির নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজেকে তৈরী করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর একাধিক কোনো প্রার্থী না থাকায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রুহুল আমীন বেশ আগেই দলের নমিনি নির্বাচিত হয়ে ফুরফুরে মেজাজে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের জোট বহাল থাকলে এ আসনে প্রার্থী নির্ধারনে হিমশিম খেতে হবে শরীকদের। শেষ পর্যন্ত বিএনপি না কি জামায়াত ইসলামী প্রার্থী দেবে তা এখনও অনিশ্চিত। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী দেলোয়ার হোসেন দুলু নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে পরিচিতি লাভ করছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি সময়ে নির্বাচনের মাঠ চষতে হাল ধরেছেন আহসানুল হক রাজিব। পবিত্র রমজান মাসে একাধিক ইফতার মাহফিল, সভা-সমাবেশসহ ছবি সংবলিত পোস্টার সাটিয়ে নিজেকে প্রার্থী জানান দিয়েছেন রাজিব। তবে আ.লীগ তথা মহাজোটের শরীকের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি। ফলে শেষ পর্যন্ত মহাজোটের সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হতে পারে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রাত্যাশীদের। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে প্রার্থীর সংখ্যা ততই বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে নির্বাচনী এলাকার মানুষ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ৪৯ হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে সবদলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ৬৪ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে বিএনপি জয়ী হয়। সেখানে জামায়াত ৪৮ হাজার ৯১৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে জোটগত নির্বাচন করে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৪৮ ভোট পেয়ে বিএনপি বিজয়ী হয়। ২০০৮ সালে আবারও জোটগত নির্বাচন করে জামায়াত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হয় আ.লীগ প্রার্থীর নিকট। জেলা নির্বাচন অফিসসূত্রে জানাগেছে, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ নির্বাচনী এলাকার ভোটর সংখ্যা ছিলো ৪ লাখ ৫ হাজার ৬৫৩, আগামী একাদশ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ পেরুতে পারে।


আরো দেখুন

আলমডাঙ্গার সাব রেজিস্টারকে অপসারণের দাবিতে দলিল লেখক সমিতি নিকট কলম বিরতি ও স্মারকলিপি প্রদান

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গার সাব রেজিস্টারকে অপসারণের দাবিতে দলিল লেখক সমিতি নিকট কলম বিরতি ও স্মারকলিপি …

Loading Facebook Comments ...