গাংনীর খড়মপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরে ক্ষোভ-প্রতিবাদ

গাংনী প্রতিনিধি: মেহেরপুর গাংনী উপজেলার খড়মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মিত এক ছাত্রের মায়ের মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় গ্রামজুড়ে বইছে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড়। গ্রাম্য শত্রুতার জের ধরে একটি বিশেষ মহলের নোংরা রাজনীতির শিকার হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। এমন মন্তব্য করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের আশপাশের লোকজন।
জানা গেছে, খড়মপুর গ্রামের আবেদ আলী মোল্লার দানকৃত জমিতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে তার ছেলে সাইদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। বিদ্যালয় ও ঈদগাহের জমিদাতা হিসেবে সাইদুল ইসলামের পরিবারের লোকজনের বিশেষ সম্মান রয়েছে ওই গ্রামে। ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র খড়মপুর গ্রামের বকুল হোসেনের ছেলে ইমন। ২০১৭ সালে ইমন ৫ম শ্রেণির মডেল টেস্ট ও সমাপনীতে অংশ নেয়নি। ফলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার মা আবারও ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেয়। বিনামূল্যে বই গ্রহণ করার পর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ইমন মাত্র দুদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক বার বার হোম ভিজিট করেও তাকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত করাতে পারেননি।
ইমনের প্রতিবেশী কয়েকজন জানান, পিতা বকুল হোসেনের সাথে মাঠে কাজ করে ইমন। অনেক আগে থেকেই মাঠে কাজ করায় অভ্যস্থ। লেখাপড়ায় মনোযোগ নেই। সারদিনই প্রায় মাঠে পড়ে থাকে। গরুর ঘাস কাটা নিয়ে কিছুদিন আগে প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলামের ছোট ভাই রাশিদুল ইসলামের বাগবিত-া হয়। এর জেরে ইমনের মা শাহনাজ খাতুন প্রধান শিক্ষকের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে রাশিদুলকে গালিগালাজ করে। এতেই তিনি ক্ষান্ত হননি রাশিদুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে গত ৩ জুলাই মেহেরপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন শাহনাজ। ইমনকে মারধর ও তার মাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকসহ তার ৪ ভাইকে আসামি করা হয়। বিজ্ঞ বিচারক শুধুমাত্র রাশিদুলের নামে সমন জারি করেছেন।
এদিকে বিজ্ঞ আদালত প্রধান শিক্ষক ও অপর দু’ভাইকে মামলা থেকে বাদ দিলে শাহানাজ ও তার মদদদাতারা আরও ক্ষিপ্ত হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ১০ জুলাই মেহেরপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলামকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন শাহনাজ খাতুন। এবার তিনি ভিন্ন অভিযোগ করেন। তার ছেলে ইমনকে উপবৃত্তির টাকা না দেয়া এবং সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি বলে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেন।
বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা, পরীক্ষার ফলাফল রেজিস্ট্রার ও অন্যান্য কাগজপত্র ঘেটে বিদ্যায়ের সহকারী শিক্ষকরা ইমনের বিষয়ে তথ্য দেন। তারা বলেন, ইমন ২০১৭ সালে ৫ম শ্রেণিতে পড়–য়া অবস্থায়ও অনিয়মিত ছিলো। ওই বছরে সে উপবৃত্তির টাকাও পেয়েছে। ইমনের মায়ের ০১৭৭৬-১৫২৪১৬ মোবাইল নম্বরে উপবৃত্তির টাকা গ্রহণ করেছেন। মডেল টেস্ট ও সমাপনী পরীক্ষায় সে নিজেই অংশগ্রহণ করেনি। অথচ আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে বিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ নষ্টের পাঁয়তারা চলছে বলেও জানান গ্রামবাসী।
ওই বিদ্যালয়ের প্রতিবেশী ইন্তাজুল হক ও আবুছ উদ্দীন বলেন, সাজেদা খাতুনের দ্বিতীয় মামলায় ঘটনার তারিখ উল্লেখ করেছেন ৮ জুলাই। এদিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ইমন লেখাপাড়া করতে চায় না বলে তার মা বিদ্যালয়েও দিতে চাইনা। শাহানাজ খাতুন নিজেই গ্রামের মানুষকে এ বিষয়ে বলেছেন। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক গাংনী শহরের বসবাস করেন। গ্রামের কারো সাথে তার খারাপ সম্পর্কও নেই। এদিকে বার বার মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে জড়ো হন কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হযরত আলী ও ইউপি যুবলীগের সভাপতি কেসমত আলী বলেন, এই বিদ্যালয়ে গত কয়েক বছর ধরে সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাস করেছে। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অত্র অঞ্চলের মধ্যে লেখাপড়ার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে বিদ্যালয়টি সুনাম অর্জন করেছে। এমন একটি সময়ে মিথ্যা মামলার ঘটনা অত্যান্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও মান ধরে রাখতে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মামলার বাদী শাহনাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি আবেদ আলী বলেন, ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে অবশ্যই বিচার হোক। যেহেতু ঘটনা মিথ্যা তাই আমরা সকলেই কষ্ট পাচ্ছি। সুবিচার পেতে তিনি আদালতসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি কামনা করেন।


আরো দেখুন

চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগকালে আলী আজগার টগর এমপি

চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দিন বেগমপুর প্রতিনিধি: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে …

Loading Facebook Comments ...