মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২৫ , ২০১৮

বন্ধ হয়নি সড়কে নৈরাজ্য :কমেনি দুর্ঘটনা

আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি,সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার পাশাপাশি অরাজকতা চলছে আগের মতোই। রোববার রাজধানীর মিরপুরে দুর্ঘটনায় জব্দ করা ঈগল পরিবহনের দূরপাল্লার একটি বাস থানায় নেয়ার সময় সেই বাসের চাকায় পিষে হত্যা করা হয়েছে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে।বাসটি পুলিশ কর্মকর্তা ও তার মোটরসাইকেলটিকে টেনেহিঁচড়ে ১০০ গজ নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকারের মৃত্যু হয়। কতোটা নিষ্ঠুর ও বেপরোয়া হলে একজন বাসচালক এমন ঘটনা ঘটাতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। মাত্র ক’দিন আগেই চট্টগ্রামে ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে রেজাউল করিম রনি নামে এক ব্যক্তিকে বাস থেকে ছুড়ে ফেলে বাসের চাকায় পিষে হত্যা করা হয়। এর আগে হানিফ পরিবহনের বাসের কর্মচারীরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমাদের প্রশ্ন, পরিবহন শ্রমিকদের এই চরম ঔদ্ধত্যের রহস্য কী? তারা কি বাস চালানোর লাইসেন্সের বদলে মানুষ হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছে! নিরাপদ সড়কের দাবিতে সম্প্রতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বড় একটি আন্দোলনের পরও বেপরোয়া বাস-মিনিবাস চালকদের দৌরাত্ম্য থামেনি। বন্ধ হয়নি সড়কে নৈরাজ্য। কমেনি দুর্ঘটনা। যাত্রী তোলা নিয়ে বাসচালকদের রেষারেষি অব্যাহত রয়েছে। আগের মতোই এক বাস আরেক বাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে চলছে, লিপ্ত রয়েছে অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। রাস্তার মাঝে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে।চালক বাস চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলছে। ভাড়া নিয়েও চলছে নৈরাজ্য। গত ২৯ জুলাই যাত্রী তোলা নিয়ে বাসগুলোর এই রেষারেষির শিকার হয়েই প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। এরপর রাজধানীসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে তোলে তীব্র আন্দোলন। একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয় সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার। নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করা হয় মন্ত্রিসভায়। কিন্তু কোনো কিছুরই যেন তোয়াক্কা করছে না গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ফলে শুধু যাত্রী ভোগান্তিই বাড়ছে না, ঘটে চলেছে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গণপরিবহনকে এভাবে চলতে দেয়া যায় না। এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই হবে।বস্তুত গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই সাথে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের স্বার্থ রয়ে গেছে উপেক্ষিত।প্রস্তাবিত আইনে বাস-মিনিবাস চলাচলের অনুমোদন প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি। নয়তো সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকবে, বদলাবে না কিছুই। শুধু গণপরিবহন নয়, সড়কে মোটরসাইকেল চলাচলেও আসেনি শৃঙ্খলা। অব্যাহত রয়েছে তাদের বেপরোয়া চলাচল।শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে কি তবে কেউই কোনো শিক্ষা নেননি? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে সেটা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পরিবহন খাত, ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। এ জন্য আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন জনসচেতনতাও। বস্তুত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও জনসচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা সবাই যদি সদা সতর্ক থাকি, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও বাধ্য হবে ট্রাফিক ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে।


আরো দেখুন

মানসম্পন্ন ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

স্বাস্থ্যসেবা খাতের যাচ্ছেতাই অবস্থা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, কর্মী সংকট ও অব্যবস্থাপনা এবং উপযুক্ত পরিবেশ-প্রতিবেশের …

Loading Facebook Comments ...