উন্মোচন হোক প্রকৃত ঘটনা, শাস্তি হোক প্রকৃত দোষীর

সমাজের সকলে সমান নয়। সকলে মানুষ হলেও অর্জন, মূল্য, মূল্যায়নে মর্যাদায় তারতম্য সভ্যতারই সৃষ্টি। সে হিসেবে যে যতোবড় দায়িত্ব পালন করেন, সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতাও ততোটাই বেশি। দায়িত্বপালনের মধ্যদিয়ে শুধু মর্যাদার আশা করা যেমন বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়, তেমনই মর্যাদাবানের মুখোশে যা-ইচ্ছে তাই করা বড্ড বোকামি। যেমনটি করে এখন অপহরণ মামলার আসামি ঝিনাইদহের অর্থশালী ব্যক্তি ড. হারুন অর রশিদ। তিনি শুধু সৃজনীর পরিচালকই নন, একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার।
একজন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে পক্ষকাল ঘরে আটকে রাখাটা কতোবড় অন্যায়, তা যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উপলব্ধি করতে পারেনি সেই ব্যক্তির দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়। পক্ষে বিপক্ষে যুক্তির যতো ঝড়ই উঠুক না কেন, বেসরকারি উন্নয়নমূলক একটি সংগঠনের শীর্ষ কর্তা বা নেতার প্রশ্রয়ে কাউকে ঘরে আটকে রাখা দেশের প্রচলিত আইনে দ-নীয় অপরাধ। দেনাদারকেও কি এক ঘণ্টা কোথাও বন্দি করে রাখার এখতিয়ার কারোর আছে? যদি কোনো প্রকল্প পাওয়ার আশায় কোনো চক্রের হাতে টাকা দিয়ে কেউ প্রতারিত হয়, সেই প্রতারিত ব্যক্তির সামনে আইন আছে, আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ বিদ্যমান। তারপরও কেন একজনকে অপহরণ করে একটি প্রতিষ্ঠানের ঘরে পক্ষকাল ধরে বন্দি করে রাখা? শুধু কি বন্দি? নির্যাতনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উত্থাপন মানেই অভিযুক্ত যে দোষী তা ততোক্ষণ নিশ্চিত করে বলা যায় না যতোক্ষণ আদালতে তিনি বা তারা দোষী প্রমাণিত না হচ্ছেন। আর এ জন্যই দরকার সুষ্ঠু তদন্ত, স্বচ্ছ সাক্ষ্য প্রমাণ।
সৃজনী একটি বেসরকারি উন্নয়নমূলক সংগঠন। এ সংস্থা বা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শুধু ক্ষুদ্র ঋণই দেয়া হয় না, সমাজে সচেতনতার আলো ছড়ানোর নানামুখি কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়। অথচ এই উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের পবহাটির কার্যালয় থেকে নির্যাতিত ব্যক্তিকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। সৃজনীর শীর্ষ কর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতনের মামলা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যেই দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্ত চলছে। প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন হোক, প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।


আরো দেখুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ এবং ৩২ ধারা

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রকে বিকল্প সংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংসদে রাষ্ট্রেীয় কাজকর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত …

Loading Facebook Comments ...