ঝিনাইদহ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দেড় ডজন প্রার্থী মাঠে

দাউদ হোসেন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। উভয় দল তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি দলের এক ডজন এবং বিএনপির হাফ-ডজন প্রার্থী এখন মাঠে-ময়দানে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালের পর ১০টি সংসদে আওয়ামী লীগ ৩ বার, বিএনপি ৪ বার, জামায়াত ২ বার ও জাতীয় পার্টি একবার প্রতিনিধিত্ব করে। আসনটি দীর্ঘদিন জামায়াত-বিএনপির দখলে ছিলো। স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের বেদখল ছিলো এই আসনটি। বর্তমান মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাতুয জুম্মা ১৯৮৪/৮৫ সালে দলের হাল ধরেন। সেই থেকে তিনি ৩ বার নির্বাচন করে দলের গতি ফেরালেও নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি। তবে একটি ভোট ব্যাংক তৈরি হয়েছে।

এই আসনটি জামায়াত-বিএনপির আসন হিসেবে পরিচিত। কারণ বিগত সংসদ নির্বাচনে ৬ বার আসনটি তাদের দখলে ছিলো। গত নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নবী নেওয়াজ এমপি নির্বাচিত হলেও মহেশপুর-কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত ও বিএনপির। এই দুঃসময়ের মধ্যেও তাদের অবস্থান ভালো। বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রায় একডজন প্রার্থী মাঠে গণসংযোগ করছেন। এতে দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে, বেড়েছে কোন্দল। কোনো শৃঙ্খলা না থাকায় যে যার মতো করে কাজ করছে। দলে এখন কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি। বিগত দিনগুলোতে উভয় দল প্রায় ২-৩ কোটি টাকার বিল বোর্ড ও পোস্টার ব্যবহার করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে যাদের অবস্থান ভালো তারা হলেন- মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাতুয জুম্মা, বর্তমান এমপি নবী নেওয়াজ, সাবেক এমপি শফিকুল আজম খান চঞ্চল, সাবেক মহিলা এমপি পারভীন তালুকদার মায়া (বরিশাল বাকেরগঞ্জ), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম টিটন।

অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান রনি, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কেন্দ্রীয় জাসাস নেতা কণ্ঠ শিল্পী মনির খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মতিয়ার রহমান ও  জাপার আব্দুর রহমান।

এই আসনটি ফিরে পেতে জামায়াত-বিএনপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা জোট করে হলেও আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায়। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় আওয়ামী লীগ রয়েছে বেকায়দায়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ময়জদ্দীন হামীদ এ বিষয়ে বলেন, প্রার্থীর নাম ঘোষণা হলে অন্তর্দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, এখানে কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল এখন অনেক শক্তিশালী, ফলে এই আসনটি ধরে রাখা সম্ভব।

অপরদিকে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই আসনটি আবার বিএনপির কাছে ফিরে আসবে। জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই আসনটি জামায়াতের দখলে থাকবে। তবে হিসাব-নিকাশ যা হোক আসল অবস্থান বোঝা যাবে তফশিল ঘোষণার পর।


আরো দেখুন

অবৈধ দখলদারদের কবলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর। চলাচলের সুবিধার্থে সড়ক সম্প্রসারণ করা হলেও …

Loading Facebook Comments ...