মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২৫ , ২০১৮

মানসম্পন্ন ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

স্বাস্থ্যসেবা খাতের যাচ্ছেতাই অবস্থা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, কর্মী সংকট ও অব্যবস্থাপনা এবং উপযুক্ত পরিবেশ-প্রতিবেশের অভাব। বেসরকারি হাসপাতালে, বিশেষ করে বড় বড় শহরের হাসপাতাল-ক্লিনিকে লোকবল সঙ্কট প্রবল নয়, পরিবেশ মোটামুটি ভালো; তবে সেসব হাসপাতালে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রবেশের যোগ্যতাই নেই। তাদের সেবাগ্রহীতারা সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা ধনী ব্যক্তি। মধ্যবিত্তরা দুয়েকবার এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকে গেলে নিম্নবিত্ত হয়ে ফেরে। বিকল্পহীন না হওয়া পর্যন্ত কোনো মধ্যবিত্ত ওদিকে যেতে চায় না। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে গল্পের অন্ত নেই। অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জায়গা ও শয্যা সঙ্কট। জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে এ সমস্যা আরও প্রকট। রোগীদের ওয়ার্ডের বারান্দায় রাখা হয়। কোনো কোনো হাসপাতালে নারী ওয়ার্ডে পর্যাপ্তসংখ্যক শয্যা না থাকায় পুরুষ ওয়ার্ডে রেখে নারী রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। আবার শয্যার অনুপাতে জনবল না থাকায় রোগীর চাপ সামাল দিতে পারেন না চিকিৎসকরা। বহির্বিভাগে (আউটডোর) ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় রোগীদের। জরুরি বিভাগে চিকিৎসককে সময়মতো পাওয়া যায় না। রুটিন ভিজিট ছাড়া চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না। পানি সরবরাহ ভালো নয়। টয়লেট খুব নোংরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে সমূহ বিপদ। জেনারেটর নষ্ট থাকে, এক্স-রে মেশিন অকেজো থাকে। উপজেলা কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসক থাকেন কদাচিৎ। কোনো কোনো জেলা হাসপাতালের কনসালট্যান্টরা ঢাকায় বাস করেন; কিন্তু নিয়মিত বেতন তোলেন। কেউ কেউ গত দুই মাসে একদিনও হাসপাতালে যাননি। কেউ বা মাসে দু-এক দিন যান। দিনে গিয়ে রাতেই ফিরে আসেন। চাকরিবিধি ও সিভিল সার্জনের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করেন না তারা। ঢাকায় তারা চুটিয়ে কনসালট্যান্সি করেন। উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর অবস্থা আরও করুণ। চিকিৎসক সপ্তাহে দু-এক দিন যান। অন্য দিনগুলোতে বন্ধ থাকে। খোলা দিনে রোগীদের অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক উপকেন্দ্রে চিকিৎসক ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়ক ও পিয়ন সব পদ শূন্য। কোনো কেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট সপ্তাহে দু-এক দিন যান। কিছু সময় থেকে চলে যান। তারা অন্যত্র ব্যবসায় জড়িত। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, যেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়, ব্যবস্থাপনাও ভালো। কিন্তু সেসব ব্যতিক্রমই। এ অবকাশে ব্যবসার জাল ছড়ায় বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মালিকরা। প্রচুর লাইসেন্সহীন হাসপাতাল-ক্লিনিকও গড়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি মোটেও কাম্য নয়। মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। সরকারকে মানসম্পন্ন ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।


আরো দেখুন

মানসম্পন্ন ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

স্বাস্থ্যসেবা খাতের যাচ্ছেতাই অবস্থা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, কর্মী সংকট ও অব্যবস্থাপনা এবং উপযুক্ত পরিবেশ-প্রতিবেশের …

Loading Facebook Comments ...