সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণের আবেদন অনলাইনে : দিতে হবে ২৮ তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গৃহ নির্মাণ ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ইতোমধ্যে একটি অভিন্ন আবেদনপত্র প্রস্তুত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী ১ অক্টোবর থেকে অনলাইনে ওই আবেদনপত্রে গৃহ ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। যারা গৃহঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদেরকে আবেদনপত্রে ২৮ রকমের তথ্য সরবরাহ করতে হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে ই-টিন নম্বর দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনের পর সেটিতে মন্ত্রণালয়ের গৃহ নির্মাণ ঋণ সেলের অনুমোদন দিতে হবে। এছাড়া প্রাইভেট প্লটের জন্য ৪-৬টি দলিল এবং সরকারি/লিজ পাওয়া প্লটের জন্য ৪-৭ দলিল দিতে হবে। ঋণ গ্রহিতাদের ইচ্ছা অনুযায়ী পাঁচটি সরকারি ব্যাংকের যে কোনো একটিতে অথবা বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে জমা দিতে হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাঁচ সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গৃহ ঋণ সম্পর্কিত ওয়ার্কিং কমিটি। ওই বৈঠকে অভিন্ন আবেদনপত্রটি চূড়ান্ত করা হয়। খুব শিগগির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবে মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে ওয়ার্কিং কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘অভিন্ন আবেদনপত্রটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সহজে পূরণ করা যাবে। এক্ষেত্রে কারও সহযোগিতা নেয়ার প্রয়োজন হবে না। আমরা আবেদনপত্রের সঙ্গে এমন কোনো কাগজ জমা দিতে বলবো না, যা জোগাড় করা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কঠিন হবে। প্রাইভেট প্লটের ঋণের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে যেসব দলিলাদি জমা দিতে হবে, জমির মূল মালিকানা দলিল; এসএ/আরএস রেকর্ডিয় মালিক থেকে মালিকানা স্বত্বের প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক দলিল; সিএস, এসএ, আরএস, বিএস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিটি জরিপ খতিয়ান জাবেদা নকল; জেলা/সাব রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃক ইস্যু করা ১২ বছরের নির্দায় সনদ (এনইসি); ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি করা বায়না চুক্তি এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল (বন্ধক দেয়ার আগে)। সরকারি/লিজ প্লটের জন্য ঋণ আবেদনের সঙ্গে যেসব প্রমাণাদি জমা দিতে হবে, প্লটের বরাদ্দপত্রের ফটোকপি, দখল হস্তান্তরপত্রের ফটোকপি, মূল লিজের দলিল ও বায়া দলিলের ফটোকপি, ফ্ল্যাট ক্রয়ের রেজিস্ট্রি করা বায়না চুক্তি, ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল (বন্ধক দেয়ার আগে)। এছাড়াও উভয়ক্ষেত্রে ঋণ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে নামজারী খতিয়ানের জাবেদা নকল, হালসনের খাজনা রশিদ, জমির মালিক কর্তৃক ডেভেলপারের দেয়া রেজিস্ট্রি করা আম মোক্তারনামা দলিল, জমির মালিক এবং ডেভেলপারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি করা ফ্ল্যাট বণ্টনের চুক্তিপত্র, অনুমোদিত নকশার ফটোকপি, ফ্ল্যাট নির্মাণস্থলের মাটি পরীক্ষার রিপোর্টের ফটোকপি, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত ছকে ইমারতের কাঠামো নকশার ফটোকপি ও ভারবহন সনদ, ডেভেলপার কোম্পানির সংঘ স্মারক, সংঘবিধি ও রিহ্যাবের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি, ডিজাইন মোতাবেক কাজ করার ব্যাপারে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের দেয়া আন্ডারটেকিং, অন্য কোনো ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নাই মর্মে ডেভেলপারের দেয়া স্ট্যাম্প পেপারে ঘোষণাপত্র, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, বেতনের সনদপত্র, সত্যায়িত ছবি ও সই। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহ নির্মাণ ঋণের বিষয়টি চলতি অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় কেউই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেননি। আশা করছি আগামী অক্টোবর মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা গৃহ নির্মাণ ঋণের জন্য আবেদন শুরু করতে পারবেন।


আরো দেখুন

আলমডাঙ্গার জামজামি বাজারে কর্মীসমাবেশে আসাদুল হক বিশ্বাস

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ডিজিটাল বাংলায় পরিণত হয়েছে স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলা আ.লীগের সিনিয়র সহসভাপতি …

Loading Facebook Comments ...