বৃহস্পতিবার , অক্টোবর ১৮ , ২০১৮

মাদকাসক্ত শিশুরা ঘরে শিশুদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ

চলচ্চিত্রে পথশিশু থেকে নায়ক বনে যাওয়ার রঙিন কাহিনি আমরা দেখে থাকি বটে; বাস্তবে তাদের জীবন কতোটা ধূসর সেই চিত্র প্রায়শই সংবাদ মাধ্যমে উপজীব্য হয়ে ওঠে। ‘নেশার জগতে পথশিশুদের জীবনের আরেকটি অন্ধকার দিকে আলোকপাত করেছে। বস্তুত রেলস্টেশনে, ফুটপাতে, পার্কে রাত কাটাতে দেখে পথশিশুদের মাথার ওপর ছাদের অভাবই প্রথম চোখে পড়ে। তাদের খাওয়া ও পরা নিয়ে শতব্যস্ত নাগরিকদের কেউ কেউ কখনও কখনও দুর্ভাবনায়ও ভোগেন বৈকি। কিন্তু খাওয়া-পরা ও মাথার ওপর ছাদের বাইরেও তাদের জীবনের অন্ধকার কতোটা গাঢ়, পথশিশু হিসেবে বেড়ে ওঠার নেপথ্যে বিচিত্র কারণ থাকলেও তাদের প্রায় সবার অনিবার্য পরিণতি মাদকের কালো ছায়া। কেবল সেবন নয়, মাদক পরিবহনকারী ও বিক্রেতা হিসেবেও তারা সহজলভ্য মাধ্যম। পথের পাশের ঝুপড়ির ভেতরে কেবল নয়, এখন প্রকাশ্যই মেলে পথশিশুদের মাদক সেবন ও বিক্রির প্রমাণ। এজন্য তাদের দায় সামান্যই। বস্তুত সমাজের পঙ্কিলতায় ভেসে বেড়ানো নানা নির্যাতনের মধ্যদিয়ে বেড়ে ওঠা এসব শিশু যখন মাদকের অন্ধকার জগতে পা বাড়ায়, তখন তাদের দায়ী করার অবকাশ কোথায়? যে প্রক্রিয়ায় তারা জন্ম নেয় এবং বেড়ে ওঠে, তা আমাদেরই সামষ্টিক ব্যর্থতার ফসল। উপযুক্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তাদের জীবন আর দশটা শিশুর মতো হতে পারতো, সন্দেহ নেই। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নাগরিকদের মানবিক আচরণ এদের জীবনে বড় আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। তাদের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সেই উদ্যোগের সূচনায় থাকুক তাদের জন্য মাদকমুক্ত জীবন। পথশিশুদের মাদকাসক্তি ঘরে থাকা শিশুদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যে জীবন হরিণের ফড়িংয়ের দোয়েলের সেটা হয়তো পথশিশুদের খুঁজে দেয়া কঠিন। সবাই আন্তরিক ও উদ্যোগী হলে মাদকের থাবা থেকে তাদের মুক্তি সহজেই সম্ভব।


আরো দেখুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ এবং ৩২ ধারা

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রকে বিকল্প সংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংসদে রাষ্ট্রেীয় কাজকর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত …

Loading Facebook Comments ...