বৃহস্পতিবার , অক্টোবর ১৮ , ২০১৮

মানুষের সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

অসুখবিসুখসহ নানা কারণে দেশে প্রতিবছর যতো মানুষ মারা যায়, তার মধ্যে ২৮ শতাংশই মৃত্যু হয় পরিবেশদূষণজনিত কারণে। এদিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এক নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পরে আছে ভারত (২৬.৫), পাকিস্তান (২৫.৮), নেপাল (২৫.৪ শতাংশ) ও অন্যান্য দেশ। ‘বাংলাদেশের পরিবেশগত বিশ্লেষণ ২০১৮’ শিরোনামে বিশ্বব্যাংক প্রণীত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। এই গবেষণায় মূলত ২০১৫ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৫ সালে নানা কারণে আট লাখ ৪৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে দুই লাখ ৩৪ হাজার মানুষেরই মৃত্যু হয়েছে পরিবেশদূষণজনিত কারণে। বলা বাহুল্য, এরপরও পরিবেশদূষণ থেমে নেই, ক্রমাগত তা বেড়ে চলেছে। ২০১৭ বা ২০১৮ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে হয়তো মৃত্যুর হার আরও বেশিই পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে। কিন্তু কিসের বিনিময়ে? মানুষের জীবনের বিনিময়ে! দেশে ক্রমেই বেশি হারে শিল্প, কলকারখানা স্থাপিত হচ্ছে। কিন্তু কোথায় হচ্ছে? বসতবাড়ির পাশেই গড়ে উঠছে কারখানা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বালাই নেই। পরিশোধন ছাড়াই তরল ও কঠিন বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে দেয়া হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে মাটি ও পানি। নির্গত ধোঁয়া মানুষের নিঃশ্বাসে গিয়ে মিশছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা ধরনের রোগব্যাধিতে। গত রোববার প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

তিনি সেখানে স্বীকার করেন, আমরা ক্রমাগত পরিবেশ ধ্বংস করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘ইটভাটাগুলো বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। ৮০ শতাংশ ইটভাটার লাইসেন্স নেই। আমরা সেগুলো বন্ধও করতে পারছি না। কারণ দেশে এখন নির্মাণকাজের (ইটের) ব্যাপক চাহিদা। বন্ধ করে দিলে ইটের দাম বেড়ে যাবে।’ তাহলে কি এ দেশে মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই? ইটের দাম বেড়ে যাবে বলে দূষণকারী ইটভাটাগুলো চালু রেখে আমরা কি এভাবে মানুষের জীবন নিতেই থাকবও? এটা কোনো সুস্থ চিন্তার কথা নয়। আমাদের ইট পোড়ানোর আধুনিক প্রযুক্তিতে যেতেই হবে, যেগুলোয় দূষণ খুবই কম হয়। তাতে ইটের দাম কিছুটা বাড়লেও করার কিছুই নেই। পরিবেশদূষণজনিত কারণে মৃত্যু হয় ধীরে ধীরে, তাই বিষয়টিকে আমরা খুব একটা গ্রাহ্য করি না। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিলো ২১ হাজার ২৮৬ জনের। পরিবেশদূষণজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা তার ১০ গুণ। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন হলেও এক্ষেত্রে তা হয় না। কারণ এই মৃত্যু তাৎক্ষণিক নয়, ধুঁকে ধুঁকে সময় নিয়ে মৃত্যু হয়। কিন্তু দেশের সরকারের তো তা অজানা নয়। নানা গবেষণায়, নানা ফোরামে অনবরত বিষয়গুলো ওঠে আসছে। আমরা চাই, উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের সুস্থতা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। দূষণের প্রধান উৎসগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হোক।

 


আরো দেখুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ এবং ৩২ ধারা

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রকে বিকল্প সংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংসদে রাষ্ট্রেীয় কাজকর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত …

Loading Facebook Comments ...