বৃহস্পতিবার , অক্টোবর ১৮ , ২০১৮

শিশুর বিকাশে চাই নিরাপদ পরিবেশ

যে ২২টি দেশ প্রথম জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদকে সমর্থন করেছিলো তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জাতিসংঘ কর্তৃক শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হওয়ার পর থেকে ‘বিশ্ব শিশু দিবস’কে ঘিরে প্রতি বছর দেশে শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশু অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং তা বাস্তবায়নে তাদের মধ্যে দৃঢ় প্রত্যয় জন্মানো।

বলা হয়ে থাকে, শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্কুলই শিশুর দ্বিতীয় পরিবার। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, শ্রেণিকক্ষে জাতির ভাগ্য নির্ধারিত হয়। একটি শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে তৈরি করতে পিতা-মাতার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু শিশুকে আদর্শবান হিসেবে তৈরির পেছনে একটি বিশাল জায়গা জুড়ে আছে স্কুলের অবদান।

শিশুদের মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ হয়ে থাকে স্কুল থেকেই। এখানে সে নীতি-নৈতিকতার সবক নিয়ে থাকে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়বদ্ধতার বিষয়টিও রপ্ত করে। স্কুলই শিশুদের মেধা ও মননকে ধাবিত করতে পারে সামাজিক পরিবর্তনের দিকে। দেশের ও দশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে।

শিশুদের বিনোদনের প্রধান জায়গা হলো স্কুলের খেলার মাঠ বা খোলা স্থান, যেখানে তারা তাদের সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার মাধ্যমে নিজের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে। শিশুরা স্কুলে একটি বিশাল পরিবেশে নিজেদের তুলে ধরতে পারে, খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং সামাজিক বন্ধন ও সামাজিক সম্পর্কের বিষয়গুলো রপ্ত করতে পারে। এখান থেকে শিশুরা শিখতে পারে পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার নানা দিক, নিয়ম ও শৃঙ্খলার বিষয়গুলো। পরিবর্তিত পরিবেশে কিংবা সমস্যায় পড়লে শিশুরা কীভাবে নিজেদের উত্তরণ ঘটাবে তা তারা খেলাধুলার মাধ্যমেই শিখতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এখন খেলার মাঠ পাওয়াই দুরূহ। যেসব মাঠ বেদখল রয়েছে সেগুলো পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

জাতীয় শিক্ষানীতিতে স্কুলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্কুলের কর্মকাণ্ডে নির্দেশনা দেয়ার জন্য বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে (এসএমসি) ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ফলে স্কুলে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এসএমসি অনেক ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে না। এই কমিটিকে উদ্বুদ্ধ করতে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শিশুদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে এবং তাদের বিদ্যালয়মুখী করতে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার। যেমন- দুর্গম এলাকাগুলোয় আরও বেশি বিদ্যালয় স্থাপন, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদানে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে সমাজে একটা ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা, শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আরও কিছু কর্মসূচি গ্রহণ, ইউনিয়ন পরিষদকে আরও শক্তিশালী করা, যাতে ওই এলাকার স্কুল ও শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর হয়। স্কুলের উন্নয়নে এলাকার জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো, শিশুর মতামতের ওপর শ্রদ্ধা প্রদর্শন, শিক্ষার অগগ্রতি এবং শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে স্কুল ও অভিভাবকদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বাড়ানো ইত্যাদি।

আসুন সবাই মিলে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা করি। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় শিশু উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করি। নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিশুর সার্বিক উন্নয়নে কাজ করি।


আরো দেখুন

মানুষের সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

অসুখবিসুখসহ নানা কারণে দেশে প্রতিবছর যতো মানুষ মারা যায়, তার মধ্যে ২৮ শতাংশই মৃত্যু হয় …

Loading Facebook Comments ...