বৃহস্পতিবার , অক্টোবর ১৮ , ২০১৮

ক্যান্সার ঝুঁকিতে নারী

শিউরে ওঠার মতো তথ্য, দেশের অন্তত ৫ কোটি ৮৭ লাখ নারী কোনো না কোনোভাবে ক্যান্সার ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতি বছর কেবল সারভাইক্যাল ক্যান্সারেই আক্রান্ত হন ১২ হাজার নারী, এর মধ্যে ৬ হাজার মারা যান। এছাড়া স্তন, জরায়ু ও জরায়ুমুখ, খাদ্যনালি এবং ফুসফুসসহ নানা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন নারীরা। কেবল যে নারীরাই ক্যান্সার ঝুঁকিতে রয়েছেন তা-ই নয়, পুরুষরাও পাকস্থলী, খাদ্যনালি, মুখগহ্বর ও ফুসফুস এবং অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। বর্তমানে দেশে ক্যান্সারাক্রান্ত ২০ লাখ মানুষ আছেন এবং প্রতি বছর দুই লাখ করে মানুষ যুক্ত হচ্ছেন আক্রান্তের তালিকায়। এর মধ্যে বছরে অন্তত দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন। দেশে মানুষের মৃত্যুর কারণের মধ্যে মারণব্যাধি ক্যান্সার রয়েছে ষষ্ঠতম স্থানে। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের পক্ষ থেকে তুলে ধরা এসব উপাত্ত থেকে ক্যান্সার কত ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করেছে দেশে, তা সহজেই অনুমেয়।

ক্যান্সারের মতো রোগে কেবল যে রোগীকে ভুগতে হয় তা-ই নয়, এতে রোগীর জীবন তিলে তিলে ক্ষয় হওয়ার পাশাপাশি গোটা পরিবারের ভোগান্তি ও নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দেশে বেসরকারি পর্যায়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, বিপরীতে সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমূল্যে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়, তাতেও যন্ত্রপাতি এবং রেডিওথেরাপি মেশিনের অপ্রতুলতা উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী, প্রতি দশ লাখ লোকের জন্য একটি ক্যান্সার সেন্টার এবং প্রতিটি সেন্টারে অন্তত দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন থাকা প্রয়োজন। এ হিসেবে দেশে ১৬০টির বেশি ক্যান্সার সেন্টার এবং ৩২০টির বেশি রেডিওথেরাপি মেশিন থাকার কথা; কিন্তু বাস্তবে পর্যাপ্ত সেন্টার তো নেই-ই, রেডিওথেরাপি মেশিনও আছে মাত্র ১৭টি। এগুলোও অনেক সময় নষ্ট থাকার কারণে দূর থেকে আসা রোগীদের সেবা না নিয়ে ফিরে যেতে হয়। অন্যদিকে সেবা পেলেও মারাত্মক শারীরিক অক্ষম রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে থাকতে হচ্ছে। অমানবিক এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ দরকার।

ক্যান্সারের মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসায় আরোগ্য লাভ অসম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে রোগীরা ডাক্তারের কাছে আসেন একেবারে শেষ পর্যায়ে। এ অবস্থায় মানুষকে, বিশেষত নারীদের সচেতনতা ও প্রতিকারের কৌশল শেখানোর বিকল্প নেই। পাশাপাশি ক্যান্সারের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে হলে খাদ্যে ভেজাল রোধ, নানা ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ ও রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার কমানো নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সম্ভবত এক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশ থেকেই আমরা পিছিয়ে। পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা ও সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ খাদ্যে বিষক্রিয়া মোকাবেলায়ও এগিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।


আরো দেখুন

মানুষের সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

অসুখবিসুখসহ নানা কারণে দেশে প্রতিবছর যতো মানুষ মারা যায়, তার মধ্যে ২৮ শতাংশই মৃত্যু হয় …

Loading Facebook Comments ...