সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিযুদ্ধেও চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীদের শক্ত অবস্থান

দর্শনার হৃদয়ের ৫৬তম ও তিতুদহ সরোজগঞ্জের ছাত্রী তেঘরির রুমকির অসাধারণ সাফল্য
আব্দুস সালাম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদে এবারের ভর্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীদের চমকের পর সরকারি মেডিকেলে ভর্তিযুদ্ধেও রেখেছে সাফল্যের স্বাক্ষর। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এবার চুয়াডাঙ্গার একজন অপেক্ষমাণসহ ২১ জন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। ৩৬টি সরকারি মেডিকেলে ৪ হাজার ৬৮টি আসনের বিপরীতে ৮০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে নামে। শুক্রবার পরীক্ষা নেয়ার একদিন পর গতকাল রোববার দুপুরে ফল প্রকাশ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কোনো কোটার সুযোগ না থাকলেও এবার বিজ্ঞান অনুষদে ১৮ জন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। গতবারের তুলনায় এবার আসন সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে জেলা উপজেলা ভিত্তিক কোটার সংখ্যাও। মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় দর্শনা জয়নগরের আলাউদ্দীন ও আলেয়া বেগমের ছেলে আব্দুল মোমিন হৃদয় ৫৬তম স্থান অধিকার করে সকলকে চমকে দিয়েছে। দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও দর্শনা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জনকে অভাবনীয় সাফল্য হিসেবেই মন্তব্য অনেকের। চুয়াডাঙ্গা ঈদগাড়াপার ডা. আব্দুল লতিফ ও মাহপাড়া সুলতানার ছেলে এইচএম ইসরাক রাউফি বিস্ময় ৩৩৪তম হয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাতেও সে বিস্ময় সৃষ্টি করে। চুয়াডাঙ্গা মুক্তিপাড়ার শাহ জালাল লিটন ও রাশিদা খানম ঝর্ণার মেয়ে ফারিহা সায়মা প্রাপ্তি ৪৩৮তম হয়ে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। একই এলাকার রুহুল আমিন মুকুল ও হাছিনা মমতাজের মেয়ে রাদিয়া তামিম ৫৬০তম হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। রাদিয়া এইচএসএসি পরীক্ষায় এপ্লাস না পেলেও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকার শীর্ষ ৩টির একটি মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে বুঝিয়েছে, ‘আমিও পারি’। জীবননগর আশতলাপাড়ার আবুল কাশেম মাস্টার ও শামসুন নাহারের ছেলে শফিউর রহমান ১০০৭তম হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। চুয়াডাঙ্গা আরামপাড়ার সাঈদ হাসান মালিক ও নাছরিন পারভীনের ছেলে সায়েম হাসান মালিক শিবলী ১০৩৩তম হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। দামুড়হুদার নতিপোতা ভগিরথপুরের মহিউদ্দীন স্বপনন ও নাসরিন আক্তার বাবলীর মেয়ে নওরিন আক্তার মিম রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। একই মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিনের ভোদুয়ার আনিছুজ্জামান ও তাসলিমা নাসরিনের ছেলে আব্দুল্লাহ। এই আব্দুল্লাহ অবশ্য সৌদি আরবের রিয়াদে লেখাপড়া করেছে। দামুড়হুদা মুন্সিপুরের আব্দুর রহমান ও জিনাত রেহানা তন্দ্রার ছেলে তাফছির রহমান মেজর সিলেট মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। একই মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে সরোজগঞ্জ বাজারের ডা. রাশেদ আহম্মেদ ও সাজেদা ইয়াসমিনের ছেলে সাব্বির আহমেদ রিফাত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে মেজর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকলেও সাব্বির আহমেদ রিফাত রয়েছে ৩২তম স্থানে। আলমডাঙ্গার উত্তর কলেজপাড়ার (পুরাতন বাজারপাড়া) নাসির উদ্দীন ও সুফিয়া খাতুনের মেয়ে অনিমা ফেরদৌস নিতু সিলেট মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোযগ পেয়েছে। চুয়াডাঙ্গা গুলশানপাড়ার আব্দুল মতিন ও নাসিমা আক্তার জাহানের মেয়ে গোধূলী মতিন মেধা রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। আব্দুল মতিন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পলন করেন। তবে বর্তমানে তিনি রাজশাহীর বাসিন্দা। দামুড়হুদা বিষ্ণুপুরের প্রফেসর আব্দুল মান্নান ও শারমিন জাহান যুথির ছেলে সাদাদ মাহমুদ আকিব রংপুর মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। চুয়াডাঙ্গা সরোজগঞ্জের তেঘরি গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও সালমা সুলতানার মেয়ে শারমিন সুলতানা রুমকি দিনাজপুর মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। রুমকি তিতুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও সরোজগঞ্জের তেতুল শেখ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। গ্রাম পর্যায়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী হয়েও রুমকির মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সকলে। চুয়াডাঙ্গা পলাশপাড়ার আহসান হাবীব ও জেসমিন আরা বর্ষার ছেলে এবিএম আবিদ হাসান জিসান কুষ্টিয়া মেডিকেলে, চুয়াডাঙ্গার পাঁচমাইল সুবদিয়ার হুমায়ুন কবীর ও তহমিনা বেগমের ছেলে হাসনাইন জাভেদ যশোর মেডিকেল কলেজে, চুয়াডাঙ্গা সিনেমাহলপাড়ার জাহেদুল ইসলাম ও মনোয়ারা খাতুন খুশির মেয়ে আনেকা আঞ্জুম প্রেমা নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে, জীবননগর কাজীপাড়ার রেজাউল ইসলাম ও নূরুন নাহারের মেয়ে কানিজ ফাতেমা ইমা জামালপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। এছাড়া যে ৫শ জনের অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এতে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা কোর্টপাড়ার মুস্তাফিজুর রহমান ও সাবিনা ইয়াসমিনের মেয়ে তামান্না আক্তার তানু। তানু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২৩৪তম স্থানে রয়েছে।
সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিতিত্তে এ প্রতিবেদন প্রস্তুতের এক পর্যায়ে জানা যায় আলমডাঙ্গার পুরাতন বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকার চৈতি ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বিস্তারিত জানা যায়নি। অপরদিকে মেহেরপুরের দুজনের মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জনের খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মেহেরপুর বাসস্ট্যান্ডপাড়ার ডা. হিমাংসু পোদ্দার ও সঞ্চিতা পোদ্দারের মেয়ে অনুসুয়া পোদ্দার ৮০৭তম হয়ে রাজশাহী মেডিকেলে এবং মেহেরপুর বড় বাজারপাড়ার মকলেছুর রহমান মুকুল ও মাহবুবা আরার ছেলে মাহমুদুর রহমান হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে।


আরো দেখুন

অবৈধ দখলদারদের কবলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর। চলাচলের সুবিধার্থে সড়ক সম্প্রসারণ করা হলেও …

Loading Facebook Comments ...