বৃহস্পতিবার , অক্টোবর ১৮ , ২০১৮

প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে আলমডাঙ্গার এমপি উজ্জ্বল

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে এমপি উজ্জ্বল নামে পরিচিত আলমডাঙ্গা শহরের হাইরোডের ফ্লেক্সিলোড ও ফাস্ট ফুড ব্যবসায়ী। গত প্রায় ১৫ দিন পূর্বে এমপি উজ্জ্বল নিজের দোকান ও আলমডাঙ্গা শহরে সদ্যনির্মিত ২তলা বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। তার নিরুদ্দেশ হওয়ার পর অর্থলগ্নিকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ ৪০-৫০ জন ব্যক্তি তাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে শুরু করেছেন। ক্রমেই বের হয়ে আসছে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার অন্তরালে এমপি উজ্জ্বলের আরেক হুন্ডি কাজল হয়ে ওঠার কাহিনি।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আটিগ্রামের মৃত আমানুল্লাহ বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৩৪) প্রায় ১০-১১ বছর আগে আলমডাঙ্গায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বিয়ে নিষিদ্ধ সম্পর্কের এক মেয়েকে বিয়ে করে পরিবার ছাড়া হয়ে আলমডাঙ্গা শহরে আসে। বেকার উজ্জ্বলের সংসার চলতো তখন নববিবাহিত স্ত্রী রেশমার প্রাইভেট পড়ানো টাকায়। এক পর্যায়ে স্ত্রীর এক ছাত্রের বাপ দয়াবশত উজ্জ্বলকে আলমডাঙ্গা হাইরোডের থানা মসজিদের সামনে একটি দোকান ভাড়া করে দেন। সেখানে সে ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা শুরু করে। পরে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার পাশাপাশি কফি ও ফাস্টফুডের ব্যবসা করতো। ধীরে ধীরে হারদী হাসপাতালে চাকরিত কয়েকজন, বেশ কিছু কলেজ শিক্ষকসহ অনেককেই তার ছোটখাট-আটোসাটো দোকানে বসে থাকতে দেখা যেতো। তারায় উজ্জ্বলকে এমপি নামে সম্বোধন শুরু করেন। অল্পদিনেই উজ্জ্বল সকলের নিকট এমপি উজ্জ্বল হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এমপি নামে ডাকলে উজ্জ্বল খুশি হতো বলেও জানা গেছে। গত ১০-১১ বছর বছরের ব্যবধানে উজ্জ্বল ২ সন্তানের জনক। সম্প্রতি স্টেশনপাড়ায় জমি কিনে সেখানে ২তলা বাড়ি করে সকলের দৃষ্টি কাড়ে সামান্য ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী এমপি উজ্জ্বল।
এহেন এমপি উজ্জ্বল প্রায় ১৫ দিন পূর্ব থেকে উধাও। দোকান বন্ধ, বাড়িতেও স্ত্রী-সন্তান কেউ নেই। ঘরের দরজা হাট করে খোলা। অথচ কেউ নেই। কয়েকদিনেই এমপি উজ্জ্বলের নিখোঁজ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো শহরে। হায়-হুতাশ বেড়ে যায় তাকে অর্থলগ্নিকারী মহলে। তারা এখন হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরছে এমপি উজ্জ্বলকে। ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে এমপি উজ্জ্বলের হুন্ডি কাজল হয়ে ওঠার কাহিনি। শহরে চায়ের দোকানে দোকানে এখন আলোচিত হচ্ছে এ কাহিনি। কতো টাকা কে লগ্নি করেছে সে গল্প। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গেছে, সোনারতরি কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক প্রবাসী আব্দুল হামিদ ৩ লাখ, জনতা ব্যাংকের ৬ লাখ, কলেজ শিক্ষক জুনায়েদ ৩ লাখ, শফি কসায়ের মেয়ে প্রবাসীর স্ত্রী চম্পা খাতুন ৩ লাখ, স্বাস্থ্য সহকারী মুক্তি ৩ লাখ, ব্র্যাক এনজিও ২ লাখ ১০ হাজার, ডা. সোমা এক লাখ, সোনারতরী কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক মুক্তা খাতুন ১ লাখ, রূপক ৩ লাখ, চুয়াডাঙ্গার এক এনজিও আড়াই লাখ, আত্মবিশ্বাস ১ লাখ, জাগরণীচক্র ফাউন্ডেশন ৭০ হাজার, গ্রামীণ ব্যাংক ৩ লাখ টাকাসহ প্রায় ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে ভেগেছে উজ্জ্বল। এছাড়া সৃজনী ও আশা এনজিওসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে আরও ১০-১২ লাখ ও রড সিমেন্টের দোকানসহ আরও কয়েকটি দোকানে তার দেনা রয়েছে বলে জানা গেছে। ওয়াকিবহাল অনেকে জানিয়েছেন সব হিসেব করলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা সে আত্মসাত করেছে। এছাড়া অহর আলী নামের এক হতদরিদ্র সহজ সরল গ্রীল মিস্ত্রিকে পটিয়ে গ্যারান্টার বানিয়ে এমপি উজ্জ্বল ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন তুলেছে। এখন সে পালিয়ে গেলেও বিপাকে পড়েছে দরিদ্র অহর আলী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অহর আলী ছাড়াও আরেক গ্রিল তৈরির দোকানের কর্মচারীকে পটিয়ে ২টি পৃথক ব্যাংকে তার নামে অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে চেকবই’র পাতায় ওই অ্যাকাউন্টধারী কিশোরের স্বাক্ষর করিয়ে এমপি উজ্জ্বল নিজের কাছে রেখেছে। বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে শেষে ওই কিশোরের চেক প্রদান করেছে। এখন ততোধিক বিপদে ওই দরিদ্র কিশোর কর্মচারী।
পাওনাদারদের কয়েকজন দাবি করেছেন, অন্যদের মতো তারা সুদে টাকা দেননি। ¯্রফে সম্পর্কের কারণে দিয়েছেন। তবে পাওনাদারদের সকলে এমপি উজ্জ্বল ও তার স্ত্রী রেশমি খাতুনের সাথে যোগাযোগের জোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের মোবাইলফোন বন্ধ পাচ্ছেন। তারা চাচ্ছেন এমপি উজ্জ্বলকে বুঝিয়ে আলমডাঙ্গায় নিয়ে এসে তার সদ্যনির্মিত বাড়ি রেজিস্ট্রি করে নিতে। তাতে কিছু টাকা উসুল হলেও হবে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এমপি উজ্জ্বল এখন কুষ্টিয়ায় অবস্থান করছে। গতপরশু সে ঢাকায় বসবাসকারী তার নিজ গ্রামের এক ছেলের নিকট মোবাইল করে ঢাকায় যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।


আরো দেখুন

কালীগঞ্জে গাঁজাসহ ৩ মাদকব্যবসায়ী আটক

কালীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ ৩ মাদকব্যবসায়ীকে আটক করেছে। গতকাল …

Loading Facebook Comments ...