জীবননগর মহিলা কলেজে হাজিরা খাতা নিয়ে প্রভাষিকার লঙ্কাকাণ্ড

শিক্ষকদের মধ্যে বাগবিতন্ডা : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউএনও’র হস্তক্ষেপ

জীবননগর ব্যুরো: জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজে হাজিরা খাতা নিয়ে কলেজের এক প্রভাষক লঙ্কাকাণ্ড  ঘটিয়েছেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো যাওয়া বাসে না নিয়ে ফেলে যাওয়ায় চরম ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রভাষক জাকিয়া ইয়াসমিন অধ্যক্ষের হাত থেকে দৈনন্দিন হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিয়ে নিজের পার্টসে ভরে রাখেন। এদিকে কলেজে এসে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করতে না পেরে ও বিষয়টি জানার পর অন্যান্য প্রভাষকদের মধ্যে বাক-বিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে চরম হৈ-চৈ, হট্টগোল আর বিশৃঙ্খলা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কলেজে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা জুড়ে চরম আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়। আলোচিত এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকালে জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজে।
জানা যায়, জীবননগর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ সরকারি করণ হওয়ায় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা সিদ্ধান্ত নেয় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধা জানাবেন। সিদ্ধান্ত মোবাবেক গত বৃহস্পতিবার ভোরে কলেজ থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার কথা। এ নিয়ে কলেজ শিক্ষকরা সভা করে সিদ্ধান্ত নেন সকাল ঠিক ৭টায় বাসযোগে রওনা হবেন; কিন্তু সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জাকিয়া ইয়াসমিন সময়মতো আসতে পারেননি। তার জন্য বেশ কিছুক্ষণ বাস অপেক্ষা করে। এ সময় তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে সম্মতি পায়নি শিক্ষকরা। ফলে তাকে ফেলে রেখেই টুঙ্গিপাড়ায় চলে যায় তারা। গতকাল কলেজ খুললে প্রভাষক জাকিয়া ইয়াসমিন সকাল ১০টার সময় অধ্যক্ষের রুমে ঢুকে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করে খাতা নিতে চান। অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন হাজিরা খাতা দিতে অপরাগত প্রকাশ করলে জাকিয়া তার সাথে খারাপ আচরণ এবং অধ্যক্ষের নিকট থেকে হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিজের পার্টসের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে এ নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ইউএনও সেলিম রেজা কলেজে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে সকাল ৭টার সময় যাওয়ার কথা। সকল শিক্ষক আসলেও জাকিয়া দেরি করে আসে। তাকে ফোন দিলে তার কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। অবশেষে সকল শিক্ষকের কথামতো গাড়ি ছেড়ে দিতে হয়। হয়তো সেই রাগেই তিনি এ কা- ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত প্রভাষক জাকিয়া ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হাজিরা খাতা নিয়ে গেছি একটাই কারণ এখানে অনেক শিক্ষক আছে যারা তিনদিন কলেজে অনুপস্থিত। তারা কলেজে এসে একবারে স্বাক্ষর করেন। তাছাড়া এই কলেজের অনেক শিক্ষক আছে যারা বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ চাকরি করেন। ফলে কলেজে দেরি করে আসেন। বিষয়টি অনেকবার প্রিন্সিপাল স্যারকে বলেছি। কিন্তু তিনি কোনো কথায় কান না দিয়ে এ ধরনের অনিয়ম করে চলেছেন। যার কারনে আমি বাধ্য হয়ে হাজিরা খাতা প্রিন্সিপালের নিকট থেকে নিয়েছি। একজন প্রভাষক হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিয়ে ব্যাগে রাখতে পারেন কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন তুলেছেন একজন প্রভাষকের এহেন কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ড নিয়ে। কলেজের প্রশাসনিক কর্মকা-ের স্বার্থে তদন্ত পূর্বক দায়ী প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি করা হয়েছে।


আরো দেখুন

চুয়াডাঙ্গায় সুধীজনদের সাথে মতবিনিময়সভায় নবাগত জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস

  রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে ভালো কাজের দ্বারা জনগণের মনে থাকতে চাই স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলা …

Loading Facebook Comments ...