আগায় পানি ঢাললেও গোড়ায় হাত পড়েনি

নিরাপদ সড়কের দাবি অনেক দিনের। নাগরিক আন্দোলন, নানা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা, বিধিবিধান ও অভিযান; এমনকি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সড়কের শৃঙ্খলা না ফেরার চিত্রও বহু পুরোনো। গত আগস্টের দেশ কাঁপানো আন্দোলন সত্ত্বেও পরিস্থিতি তথৈবচ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ হওয়ার পর দেশের সড়কগুলোতে বিশৃঙ্খলা ফিরে আসায় খোদ প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আগস্টের শেষদিকে। ইতোমধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে; সেখানে অবহেলাজনিত দুর্ঘটনার জন্য চালকের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও রয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন বিশৃঙ্খলা কাটছে না? এর কারণ আলোচ্য প্রতিবেদনেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে ‘আগায় পানি ঢাললেও গোড়ায় হাত পড়েনি। আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে দেখছি, প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মূল্যবান প্রাণ ও রক্ত ঝরছে।

তাহলে এতো আন্দোলন, বিক্ষোভ, প্রত্যাশা ও প্রতিজ্ঞার ফল কী? এই সম্পাদকীয় কলামেও আমরা প্রায়শ যেসব সুপারিশ ও তাগিদ দিচ্ছি, তার কোনো মূল্য নেই! সকলই গরল ভেল! আমরা মনে করি, সত্যিই গোড়ায় পানি ঢালার সময় এসেছে। বস্তুত গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সড়ক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই। আমরা জানি, পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ জনবল সংকটে ভুগছে। এক একজন পরিদর্শককে কীভাবে দিনে শতাধিক গাড়ির ফিটনেস যাচাই করতে হয়, তা কিছুদিন আগে সংবাদ মাধ্যমের উপজীব্য হয়েছিলো। আমরা মনে করি, ফিটনেস সমস্যাই একমাত্র সঙ্কট নয়। খোদ চালকদের নিয়ম-শৃঙ্খলা মানার প্রবণতা থাকলেই দুর্ঘটনা বহুলাংশে কমত। বেশিরভাগ  দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যায় বেপরোয়া গতি কিংবা সড়কের নিয়ম না মানা দায়ী। মনে রাখা জরুরি, নিয়ম মানার বিষয়টিও বহুপক্ষীয়। চালকের পাশাপাশি পথচারীদেরও হতে হবে সতর্ক। বড় কথা, আইনের প্রয়োগ সর্বাত্মক হতে হবে। আমরা দেখি, নিরাপদ সড়কের দাবিতে নাগরিক আন্দোলন তুঙ্গে উঠছে, ট্রাফিক সপ্তাহ এলে অভিযান চালানো হয়। অথচ অভিযান সাংবৎসরিক হওয়া উচিত। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব যথার্থ বলেছেন, সড়কে শৃঙ্খলা নিয়ে ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’ চলছে। এই খেলার পেছনে যে অর্থ, বখরা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবও কাজ করে, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা চাই, সড়কে বিশঙ্খলা নিরসনে সব পক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসবে। একদিন, এক সপ্তাহ বা এক মাসের আন্তরিকতা নয়; বছরজুড়েই বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে হবে। সরকার, পুলিশ, কর্তৃপক্ষ; সর্বোপরি চালক ও যাত্রীরা যদি আন্তরিক হয়, তাহলে সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ এড়ানো কঠিন হতে পারে না।


আরো দেখুন

মানুষের সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

অসুখবিসুখসহ নানা কারণে দেশে প্রতিবছর যতো মানুষ মারা যায়, তার মধ্যে ২৮ শতাংশই মৃত্যু হয় …

Loading Facebook Comments ...