চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিকসভায় জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস

 

আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার: ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির ধারা তখনই ত্বরান্বিত হয় যখন থাকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা। চুয়াডাঙ্গার আইনশৃঙ্খলার ক্রমন্বয় উন্নতি অবশ্যই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। যেহেতু বিষয়টি চলমান, সেহেতু পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে আমাদের সবসময়ই সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এতে বিগত দিনের মতো আগামী দিনেও চুয়াডাঙ্গার শান্তিপ্রিয় সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।’ জেলা প্রশাসক হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় যোগদানের পর জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রথমসভায় সভাপতির বক্তব্যে গোপাল চন্দ্র দাস উপরোক্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘২০তম বিসিএস’র মাধ্যমে সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য যখন যে জেলায় গিয়েছি, যেতে হয়েছে তখন সেই জেলাকেই নিজের জেলা হিসেবেই আপন করে নিয়েছি। চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যদিয়ে আমি এখন এই জেলারই একজন। জেলার শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা নিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি শারদীয় দুর্গা উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘বাঙালি সাংস্কৃতির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে দুর্গাপূজা। দুর্গোৎসবকে নির্বিঘœ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সকলকে সচেতন থাকতে হবে। সম্প্রীতি রক্ষায় সকলকেই আন্তরিক হতে হবে। এটা আমাদের দেশের প্রতি দায়িত্বেরই অংশ। আমরা যদি সকলেই সতর্ক থাকি তাহলে অবশ্যই অনেক সুন্দরভাবে আমরা সকল ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসবকে আনন্দপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে পারবো। আগামী ১৬ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে উন্নয়ন কনসার্ট। সর্বস্তরের সকলকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়ে কনসার্টটি যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পারি সে লক্ষ্যে সকল প্রকারের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তায় কমতি থাকবে না।

গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিকসভায় জেলা প্রশাসক বলেন, জেলায় ১১৩টি ম-পে দুর্গাপূজার আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে ১১১টি স্থানে জাকজমকভাবে পূজা ম-বের আয়োজন করা হয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করবে। বরাবরের মতো জেলা প্রশাসন বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন করবে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মাদক, বাল্যবিয়েসহ সমাজে যে সমস্যাগুলো আছে তার প্রতিরোধ চলমান রাখতে হবে। এক্ষেত্রে জেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। জেলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম নবাগত জেলা প্রশাসককে স্বাগত জানিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুত ব্যক্ত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ নেই। সম্প্রতি দামুড়হুদা-দর্শনা সড়কে রাতে যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিলো তা পর্যবেক্ষণ করে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পূজা উপলক্ষে ম-পগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারিতে থাকবে। তবে কোনো গুজবে কান না দিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। পাশাপাশি নিজেদেরও সতর্ক থাকতে হবে। চুয়াডাঙ্গার সচেতনমহল একটু সজাগ থাকলে আমরা সব কিছুই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে পারবো বলে আশাবাদী। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। সভার কার্যবিবরনী উপস্থাপন করেন জেলার নবাগত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন। উপস্থাপনাসহ সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ। বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ড. খাইরুল আলম, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ অমল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক সরদার আল আমিন প্রমুখ। সভার শুরুতে কমিটির সদস্যদের সকলে পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি নবাগত জেলা প্রশাসককে স্বাগত জানান।


আরো দেখুন

অবৈধ দখলদারদের কবলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর। চলাচলের সুবিধার্থে সড়ক সম্প্রসারণ করা হলেও …

Loading Facebook Comments ...