চুয়াডাঙ্গায় সুধীজনদের সাথে মতবিনিময়সভায় নবাগত জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস

 

রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে ভালো কাজের দ্বারা জনগণের মনে থাকতে চাই

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেছেন‘ রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে ভালো কাজের দ্বারা জনগণের মনে থাকতে চাই। আমি সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। এজন্য সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করবো। বিগত জেলা প্রশাসকের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকবে।’ গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময়সভায় জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস এসব মন্তব্য করেন।

জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জসিম উদদীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান ও পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। অন্যের মধ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আ.স.ম. আব্দুর রউফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর বেগম, সাংবাদিক আজাদ মালিতা, ব্র্যাক প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার, জাতীয়পার্টির নেতা অ্যাড. মোসলেম উদ্দিন, মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. মানি খন্দকার, এনজিও প্রতিনিধি এইচএম মোয়াজ্জেম হোসেন ও দারুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, সাংস্কৃতিক কর্মী আব্দুস সালাম ও অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তারা বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিশুদ্ধ পানির সমস্যা রয়েছে। এলাকার পান চাষিদের জন্য একটি গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা দরকার। এখানে তামাক চাষের সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে। এ জেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। বাল্যবিয়ে ও মাদক প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনার জন্য একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদের উন্নয়ন কাজগুলো এগিয়ে নেয়া ও আরও ভালোভাবে করতে হবে। শহরকে যানজটমুক্ত করতে অবৈধ নসিমন-করিমন চলাচল বন্ধ করতে হবে। সড়কের দু’পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে নিরাপদ সড়ক তৈরি করতে হবে। একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাথাভাঙ্গা নদীর উৎসমুখ খনন করতে হবে। একটি সেল্টার হোম নির্মাণ করতে হবে অসহায় নারীদের জন্য। শহরে রেলগেটের ওপর একটি ওভার ব্রিজ ও বাইপাস সড়ক নির্মাণ করতে হবে। যেসকল খাসজমি বেদখল রয়েছে তা দখলমুক্ত করে মৎস চাষ ও বাগান তৈরি করতে হবে। স্কুল ও কলেজ চলাকালীন সময়ে যেন কোচিং চালাতে না পারে সেদিকে মনিটরিং বাড়াতে হবে। শহরে ১ লিটার স্পিরিটে ১৩ লিটার পানি মিশিয়ে বাংলা মদ বিক্রির কারণে শহর থেকে মাদক দূর হচ্ছে না। এসব বন্ধ করতে হবে। আলমডাঙ্গা শহরের চারতলা এলাকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একটি ম্যুরাল নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। খেলাধুলার মধ্যদিয়ে মাদককে দূর করতে কর্মসূচি নিতে হবে। মতবিনিময়সভায় জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস আরও বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। বাংলাদেশ ২০৪১ সালে ১১তম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভুত হবে। আমি যেদিন যোগদান করেছি সেদিনই এ জেলার নাগরিক। অবশ্যই ভালো কাজ করবো। আমি খারাপ কাজ করতে আসিনি। ভুল হলে আপনারা ধরিয়ে দেবেন।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন নবাগত জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। গতকাল রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা রেলগেটের লেবেল ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে ফøাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি মাদক নিরোধে কাজ করা ও জেলার সার্বিক উন্নয়ন কিভাবে ত্বরান্বিত করা যায় তার ওপর সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। মতবিনিময় সভায় শুরুতে নবাগত জেলা প্রশাসক নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, আমি ঢাকা মুন্সিগঞ্জের ছেলে। ২০ তম বিসিএসের মাধ্যমে আমি সিভিল সার্ভিসে যোগদান করি। গপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমি চুয়াডাঙ্গায় (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করি গত ১০ অক্টোবর। এরপর চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত বিভিন্ন, প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকগণ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের পরিচয় দেন। কী কী করলে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে আরো ভালো ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা যায়, নবাগত জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাসের এ আহ্বানের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের নিকট নানা ধরনের প্রস্তাবনা আসে । যার মধ্যে ছিল চুয়াডাঙ্গা রেলগেটের লেবেল ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ, মাদক নিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জিরো ট্রলারেন্স প্রদান, দর্শনা গেদে স্থল বন্দর দিয়ে সড়ক পথে দু-দেশের মধ্যে আমদানী-রফতানী চালু করন, কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, মাথাভাঙ্গা নদী ড্রেজিং, মাথাভাঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ, কোচিং বাণিজ্য বন্ধকরণ, চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার থেকে টাউন ফুটবল মাঠ পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে যেখানে সেখানে ট্রাক-বাস পার্কিং কঠোর হস্তে দমন করা, সারা শহরে সড়কের যেখানে সেখানে আকস্মিকভাবে অটোবাইক দাঁড়ানো, যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধকরণ, আলমসাধু-নসিমন করিমন দিনের বেলায় শহরে প্রবেশ না করতে দেয়া, বাইপাস সড়ক দ্রুত নির্মাণ করা, বিল-বাঁওড়, জলমহাল সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে হস্তান্তর করা, চুয়াডাঙ্গায় হিমাগার নির্মাণ, টপ সয়েলকাটা বন্ধকরণ ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকগণ নবাগত জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রস্তাবনার সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, আমি চুয়াডাঙ্গায় সবার আগে লেবেল ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নিয়ে কাজ শুরু করবো। সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজ আমার পাশে থাকলে আমি সে কাজ করতে পারবো বলে মনে করি।

সাংবাদিকদের মধ্যে সর্বশেষ বক্তব্য রেখে জেলা প্রশাসককে সহযোগিতার আশ্বাস দেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশ সরদার আল আমিন। তিনি বলেন, জেলার সকল সাংবাদিক আপনার ভালো কাজের সাথে থাকবেন, তবে অতি উৎসাহী তোষামোদকারীদের তোষামোদে বিভ্রান্ত না হওয়ার প্রতি আহ্বান জানাই।

সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলশ সনি, সাপ্তাহিক চুয়াডাঙ্গা দর্পণের সম্পাদক-প্রকাশক আনোয়ার হোসেন, দৈনিক আমাদের সময় জেলা প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক বিপুল আশরাফ, দৈনিক মাথাভাঙ্গার সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইসলাম রকিব প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: জসীম উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীনসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।


আরো দেখুন

অবৈধ দখলদারদের কবলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর। চলাচলের সুবিধার্থে সড়ক সম্প্রসারণ করা হলেও …

Loading Facebook Comments ...