অবৈধ দখলদারদের কবলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর। চলাচলের সুবিধার্থে সড়ক সম্প্রসারণ করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। যেখানে সেখানে মোটরযান রাখা এবং সড়ক বিভাগ ও পৌরসভার জমিতে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় সাধারণ মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে জেলা শহর। তাই ছোটখাটো দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে অবৈধ দখলদারদের থামানো যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার সংলগ্ন প্রধান সড়কের ধারে গড়ে তোলা হয়েছে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এলজিইডি কার্যালয়ের অপর পাশে সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে অসাধু ব্যক্তিরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশেই কসাইরা পৌরসভার অনুমতি না নিয়েই গরু-ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন। পশুর বর্জ্য ফেলছেন যেখানে সেখানে। জেলা পরিষদের পাশেও সড়ক বিভাগের জমি দখল করে ব্যবসা করছেন কয়েকজন। সড়ক ও জনপথ কার্যালয়ের অপর পাশের জমিও বেদখল হয়ে গেছে। পুরোনো কাস্টমস কার্যালয়ের অপর পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে মোটরসাইকেল গ্যারেজ। সড়ক দখল করে শহরের কোর্ট এলাকায় গড়ে উঠেছে দোকান। সড়কের ওপরেই খোলা হয়েছে যাত্রীবাহী বাসের কাউন্টার। পুরোনো জেলখানার পার্শ্ববর্তী এলাকাও অবৈধ দখলদারদের কব্জায় পড়েছে। সেখানে সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন কতিপয় ব্যক্তি। রেলস্টেশনমুখী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর কার্যালয়ের সামনের সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বেশকিছু দোকান। একইভাবে কয়েকজন অবৈধ দোকান ঘর তৈরি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের প্রাচীরের কোল ঘেঁষে। টিঅ্যান্ডটি কার্যালয়ের প্রাচীর ও তার ওপর পাশে ছোটছোট চায়ের দোকান তৈরি করেছে কয়েকজন দখলদার। রেলস্টেশনের কাছে সড়কের জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে মাছের আড়ৎ। আলুকদিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গামুখী সড়কের দু’ধার দখল করে বিভিন্ন ব্যবসা করছেন প্রভাবশালী কয়েকজন। শহরতলি দৌলাতদিয়াড়ে প্রতিদিন প্রধান সড়কের ওপরে ট্রাক পার্কিং করে রাখা হয়। মাথাভাঙ্গা নদীর ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশ দখল করেছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সামনেও দখল করে ব্যবসা চলছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উন্মুক্ত মঞ্চের সামনের সড়কেও রয়েছে অবৈধ দোকান। পৌরসভার বাস-টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও শহরের বড় বাজারের কাউন্টার হতে প্রধান সড়কের ওপর থেকে নিয়মিতভাবে ঢাকাগামী পরিবহন ছেড়ে যাচ্ছে। ওই পরিবহনগুলো সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করে। এতে সড়কে চলাচলকারীদের প্রচ- দুর্ভোগ পোয়াতে হয়। বড়বাজারের খাবারের হোটেলগুলো সড়ক দখল করে তাদের কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধান ডাকঘরের সামনের অংশ দখল করে চা ও ফুলের দোকান করেছে দখলদাররা। রেলক্রসিং পেরিয়ে ডিঙ্গেদহের দিকে যেতে চেম্বার অ্যান্ড কমার্স কার্যালয়ের সামনের গ্যারেজে ট্রাক মেরামত করা হয় সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রধান সড়কের কিছু কিছু জায়গা দখল করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু কিছু মার্কেট ফুটপাত দখল করে রাখার ফলে পথচারীরা দুর্ভোগের শিকার হন।
চুয়াডাঙ্গার সকল অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাটে কিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অবৈধ দখলদাররা ব্যবসা করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে চুয়াডাঙ্গা ওয়েস্ট জোন পাউয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবক্ত গীণ বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গেলে আমাদের চাহিদা মতো কাগজপত্র তারা জমা দিতে পারবে না। শহরের বড়বাজারসহ বহু জায়গায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অনেকে পথে বসে ব্যবসা করছেন। এদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর অবহিতকরণ চিঠি দেবো। সড়ক ও জনপথ, পৌরসভাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া অবৈধ স্থাপনা সরানোর কাজ করা সম্ভব হয় না। তবে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ গোটা চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেবে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার বলেন, ‘ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গোটা জেলায় অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাছাড়া সড়ক ও জনপথের জমি মাপার কাজ অব্যাহত আছে। এগুলো সম্পন্ন হলেই অবৈধ স্থাপনা সরানোর কাজ শুরু হবে।’


আরো দেখুন

চুয়াডাঙ্গায় সুধীজনদের সাথে মতবিনিময়সভায় নবাগত জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস

  রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে ভালো কাজের দ্বারা জনগণের মনে থাকতে চাই স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলা …

Loading Facebook Comments ...