আলমডাঙ্গার উদয়পুর-কাঁঠাভাঙ্গা-হারদীর ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সেলিম চেয়ারম্যান

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: ঝড় থেমে গেছে, কিন্তু থামেনি মানুষের হাহাকার। ভাঙা টিনের চাল, উপড়ে পড়া গাছ আর মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া ঘরের পাশে বসে এখনো দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন আলমডাঙ্গার উদয়পুর, কাটাভাঙ্গা ও হারদী গ্রামের মানুষ। রাতের সেই তাণ্ডবের পর প্রতিটি সকাল যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে ক্ষুধা, অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াইয়ে। এই দুঃসময়ের ভেতরেই ঈদের পরদিন এক টুকরো আশার আলো হয়ে তাদের মাঝে পৌঁছান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিম (সেলিম চেয়ারম্যান)। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলুর নেতৃত্বে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ছুটে যান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে। এ সময় পাশে ছিলেন ত্যাগী নেতা আব্দুস সাত্তার, মহিনুল ইসলাম,  নাসির উদ্দীন প্রমুখ। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে তারা শুধু ক্ষয়ক্ষতি দেখেননি, শুনেছেন মানুষের হৃদয়ভাঙা কণ্ঠের বেদনার গল্প। কোথাও নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, কোথাও চুলা জ্বলে না দিনের পর দিন। শিশুর মুখে খাবার নেই, বৃদ্ধের চোখে শুধু শূন্যতা গ্রামগুলো যেন এক নিঃশব্দ কান্নার উপাখ্যান। এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেই সেলিম চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেন এক বস্তা করে চাল। পাশাপাশি কয়েকটি অসহায় পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করেন, যাতে অন্তত সাময়িকভাবে হলেও তারা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পারেন। ত্রাণ নিতে এসে অনেকের চোখে ছিল অশ্রু। কেউ বলছিলেন, “সব হারিয়ে ফেলেছি,” আবার কেউ নিঃশব্দে শুধু মাথা নেড়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন। যেন এই সামান্য সহায়তাই তাদের কাছে বেঁচে থাকার নতুন সাহস হয়ে উঠেছে। এ সময় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বসে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন এবং দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দেন। তাদের উপস্থিতি যেন কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয় দু:সহ সময়ে মানুষের একাকিত্বের ভার। উল্লেখ্য, এর আগেও ঈদকে সামনে রেখে সেলিম চেয়ারম্যান তার মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ঈদের আগে তিনি এলাকার প্রায় ৭ হাজার দরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। দুর্যোগের এই সময়েও সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন দেখা গেল তার উদ্যোগে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে এখনো স্পষ্ট দুর্যোগের চিহ্ন। ভাঙা দেয়াল, উড়ে যাওয়া চাল, নষ্ট হয়ে যাওয়া খাদ্যশস্য, গাছপালা সব মিলিয়ে এক বিষণ্ন দৃশ্য। অনেক পরিবার এখনো খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। শিশুদের চোখে আতঙ্ক, বৃদ্ধদের চোখে ক্লান্তি এই বাস্তবতা যেন ভাষায় প্রকাশের অতীত।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শুধু খাদ্য সহায়তা নয় তাদের প্রয়োজন স্থায়ী পুনর্বাসন, ঘর নির্মাণ এবং দ্রুত সরকারি সহযোগিতা। তারা আশঙ্কা করছেন, যথাসময়ে সহায়তা না পেলে এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে। এলাকাবাসীর মতে, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঝড় হয়তো থেমে গেছে, কিন্তু মানুষের জীবনে রেখে গেছে গভীর ক্ষত। সেই ক্ষত সারাতে প্রয়োজন সময়, সহমর্মিতা আর একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা। আর সেই পথেই হয়তো আজকের এই সহায়তার হাতগুলো হয়ে থাকবে আগামী দিনের নতুন আশার বীজ।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More