জীবননগর ব্যুরো:সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় জীবননগর পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ২য় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা নামাজ পড়ান জীবননগর বসুতিপাড়া জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা রুহুল আমিন। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুমের বড় ভাই কাজল হোসেন। জানাযা নামাজ শেষে পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। সমাহিত করার পর মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেয় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুসহ হাজারো মুসল্লীরা।
পরে মরহুম বিএনপি নেতার বড় ভাই কাজল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাইকে সেনা অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত দুইদিন ধরে অনেকেই বলছেন এর সঠিক বিচার হবে। এটি শুধু মুখের কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য যে, গত ১৩ জানুয়ারী রাতে জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।সেনা হেফাজতে থাকার কিছুক্ষণ পরে মৃত্যু বরণ করে সে। মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা ডাবলুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলে জীবননগর শহর উত্তাল হয়ে পড়ে।সড়ক অবরোধ করে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ শোক জানান। অভিযানে অংশগ্রহণ করা সকল সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করে সেনানিবাসে পাঠানো হয়।
মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার জীবননগর পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১ম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরেরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় একই স্থানে ২য় জানাযা শেষে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বিএনপি নেতা ডাবলুকে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.