ঝিনাইদহে গৃহবধূকে অপহরণ করলো নামধারী সাংবাদিক

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: বিবাহিত মেয়েকে গর্ভে সন্তানের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে অপহরণ করলেন এক নামধারী সাংবাদিক। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূর মা। নামধারী সাংবাদিকের নাম ইনসার আলী। গ্রামের বাড়ি উপজেলার যাদবপুরে। তিনি ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুরের জামতলা নামক স্থানে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তিনি নিজেকে দৈনিক আশ্রয়কন্ঠ, দৈনিক আরশিনগর ও অপরাধ কণ্ঠের পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকতা করে বেড়ান।

মামলা বিবরণ থেকে জানা যায়, বিগত চার বছর আগে হরিণাকু-ু উপজেলার মন্দিরা গ্রামের আশরাফ উদ্দিন বেপারীর মেয়ে মিম খাতুনের বিয়ে হয় একই গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে দিপু হোসেনের সাথে। তাদের চার বছরের বিবাহিত জীবনে কোনো সন্তানাদি হয়নি। মিমের সন্তানাদি না হওয়ার সুযোগ নিয়ে ইনসান আলী তাকে প্রলোভন দেখান ঝিনাইদহে এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তার সন্তান হবে। এ কথা বলে ঘটনার কিছুদিন আগে ঝিনাইদহে নিয়ে এসে তাকে জোহান পার্কে নিয়ে যান। এই পার্কে নিয়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন এবং দুজনের অন্তরঙ্গ ছবি উঠান। এ সময় ওই সাংবাদিক গৃহবধূকে বলেন তার সাথে গোপনে মেলামেশা করলে তার গর্ভে সন্তান আসবে কেউ জানতে পারবে না। ওই সাংবাদিকের এ প্রস্তাবে মিম রাজি হয়নি। তারপরেও প্রায়ই ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাকে ঝিনাইদহ নিয়ে যায়। শুধু তাই নয় তাকে সন্তান দেয়ার কথা বলে বিভিন্নভাবে তার নিকট থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতে থাকে। অবশেষে তার অভিলাষ যখন পূরণ হচ্ছিল না তখন মিমকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে। ঘটনাটা ঘটায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ইনসার একটি মহেন্দ্র নিয়ে তার সাথে আরও ৩-৪ জন লোক নিয়ে মিমের বাপের বাড়িতে হাজির হয়। বলে যে তোমাকে একজন ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে তাই বলে তাকে বুঝায় এবং বলে টাকা পয়সা নিয়ে এসো। এই সময়ে তার ঘরে থাকা গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা সহ ব্যবহারকৃত স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে ডাক্তারের কাছে যায়। তারপর রাতে অপেক্ষা করার পরে যখন আর মিম ফিরে না আসে তখন পরের দিন তারা তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। না পেয়ে অবশেষে ১৮ই সেপ্টেম্বর মেয়ের মা বাদী হয়ে ঝিনেদা আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। ঘটনা একমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত আসামী ইনসান আলী গ্রেপ্তার হয়নি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More