মিরপুরে শ্রেণিকক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় স্কুলছাত্রী উদ্ধার : ধর্ষণের আলামত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার মিরপুরে রাতে স্কুল ভবন থেকে অচেতন অবস্থায় এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর তাকে ২৫০ শয্যা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানালেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিদ্যালয়ের দুই কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী (১১) মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে সে নানাবাড়ীতে বসবাস করে আসছে। বৃহস্পতিবার সকালে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে যায় ওই কিশোরী। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ী না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরিবারের দাবি, অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে জানান এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ওই কিশোরীকে খোঁজা শুরু করেন। পরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ওই কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর প্রথমে তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীকে রাতে হাসপাতালে আনা হয়। তার প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর মা জানান, অনুষ্ঠান শেষে তার মেয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যাগ আনতে গিয়েছিল। সেখান থেকে তৃতীয় তলায় যায়। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছে না। জ্ঞান ফেরার পর ভুক্তভোগী কিশোরী গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, সে সিঁড়ির কাছে বসে ছিল। এরপর তার আর কিছু মনে নেই। ভুক্তভোগী কিশোরীর মামা জানান, তারা আপাতত বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন। সঠিক বিচার না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More