কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার মিরপুরে গ্রাম্য দলাদলির কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য সাহাবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদাদেশ দিয়েছে আদালত। সেই সাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদাদেশ দেন আদালত। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবির সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মিটন পশ্চিমপাড়া এলাকার মহিন প্রামানিকের ছেলে আসাদুল প্রামানিক ওরফে কালু (৪৪), একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন (৫৫), ওমর আলীর ছেলে মিলন হোসেন (৩৫) এবং মাজিহাট এলাকার মসলেম মোল্লার ছেলে এবং মিটন পশ্চিম পাড়া এলাকার জালাল বিশ্বাসের জামাই আবু তাহের (৪৭)। রায় প্রদানকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের ব্যতিত অপর তিনজন আসামি উপস্থিত ছিলো। আবু তাহের পলাতক রয়েছে। আদালত সুত্রে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবদমান দ্বন্দ চলে আসছিলো। প্রায়ই পক্ষগনের মধ্যে হামলা মামলা মারধর ভাংচুর লুটপাটের ঘটনা ছিলো নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রতিনিয়তই পক্ষগণ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মারধরসহ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিক ঘটনার একটি হলো এই মামলার বাদিনী সুমী খাতুনের স্বামী কৃষি শ্রমিক সাহাবুল মন্ডলকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর বিকেলে মিটন গিয়াসমোড় এলাকায় বাজার করতে যায় সাহাবুল ইসলাম এবং তার ছেলে সাব্বির। বাজারের ব্যাগসহ সাব্বিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সাহাবুল এবং তার পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিলো। পরদিন ২১ অক্টোবর বুরাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের একটি ধৈঞ্চা ক্ষেত থেকে সাহাবুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ঐ দিন মিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সাহাবুল ইসলামের স্ত্রী সুমি খাতুন। যার মামলা নং-২৫। মামলাটি তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম জাবীদ হাসান ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় দীর্ঘ বিচারকার্যে ১৭জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এবং ১৬৪ ধারায় আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয় আসামি আসাদুল প্রামানিক ওরফে কালু। পরবর্তীতে সোমবার এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, মুলত গ্রাম্য দলাদলিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আসামিরা সাহাবুল ইসলামকে হত্যা করে। আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি এবং স্বাক্ষ্য ও প্রমানের ভিত্তিতে চার আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকার করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় প্রদানকালে দন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলো। পরে তাদের কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.