গাংনীতে জ্বালানি তেল নিতে এসে প্রভাবশালীদের হামলার শিকার কৃষক

 

স্টাফ রিপোর্টার: ডিজেল পাওয়ার আশায় ভোর রাত থেকে পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কৃষক মিরাজ হোসেন। তিন ঘণ্ট পর মেশিনের কাছে পৌছানো মাত্রই সিন্ডিকেটের রোশানলে পড়েন তিনি। তাকে তেল না দিয়ে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা পাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের তেল বোঝাই করতে থাকেন। এই অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সিন্ডিকেটের ২০/২৫ জন সদস্য কৃষক মিরাজকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এসময় তাকে কেউ ঠেকাতে আসেনি। তার জামা পর্যন্ত ছিড়ে যায়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মের্সাস হোসেন ফিলিং স্টেশনে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কৃষক মিরাজ হোসেন উপজেলার জোড়পুকুর গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাংনীর হোসেন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে তেল বিতরণে অনিয়ম চলছে। লাইনে দাঁড়ানো কৃষকদের উপেক্ষা করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জোর করে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি ছিনিয়ে নিচ্ছেন। এতে সাধারণ বাইকার ও কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। ভূক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করেন, সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক মিরাজ হোসেন অনিয়মের প্রতিবাদ করলে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী তাকে মারধর করেন। তাদের চোখের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার মিরাজ হোসেন বলেন, তিনি ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু নিয়ম মেনে লাইনে না দাঁড়িয়েও অনেকেই ইচ্ছেমতো তেল নিয়ে চলে যাচ্ছিল। তিনি শুধু লাইনের নিয়ম মেনে তেল নেয়ার কথা বলেছিলেন, এ কারণে ৮ থেকে ১০ জন মিলে তাকে মারধর করে এবং তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে। থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে মিরাজ হোসেন বলেন, তিনি থানায় অভিযোগ করবেন না। বরং দলের সিনিয়র নেতাদের কাছেই বিষয়টি জানাবেন এবং তারা কী বিচার করেন, সেটাই দেখবেন। তিনি দাবি করেন, হোসেন ফিলিং স্টেশনের সিসি ক্যামেরা যাচাই করলেই পুরো ঘটনার সত্যতা ও অনিয়ম স্পষ্ট হবে। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এদিকে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More