গাংনীর হেমায়েতপুরে পুলিশের উপস্থিতিতেই মিলছে চড়া দামের ডিজেল

অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তেলের চালান ছেড়ে দিলেন ক্যাম্প ইনচার্জ
স্টাফ রিপোর্টার: তেলের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে ঈদের আগে থেকেই। তবে সরকারি এ সিদ্ধান্তের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মেহেরপুরের গাংনীর হেমায়েতপুর বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল। কৃষকরা ফিলিং স্টেশন ঘুরে প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। কিন্তু হেমায়েতপুর বাজারে বাড়তি টাকা দিলেই মিলছে প্রচুর পরিমাণ তেল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জের উস্থিতিতে ২৫০ লিটার তেল বিক্রি হলেও কোনো আইনী ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে নানা সন্দহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাই ভাই হার্ডওয়্যার নামের একটি দোকানে ডিজেল, পেট্রোল ও মবিল বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি বিপিসির কোন এজেন্ট নন। কিন্তু তার দোকানে রয়েছে ব্যারেল ব্যারেল ডিজেল। প্রতি লিটার ডিজেল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই। দোকানের কয়েক’শ গজ দূরে হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও অজ্ঞাত কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছেন সেখানকার ক্যাম্প ইনচার্জ। অভিযোগ রয়েছে, দোকানের মালিক জজ মিয়া বাজারে তেল বিক্রিতে অনিয়ম করছেন। আশেপাশের গ্রামের অনেক ক্রেতা সরকারি মূল্যে তেল কিনতে এলেও ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর গ্রামের কালুর কাছে একসাথে প্রায় ২৫০ লিটার তেল বিক্রি করেন তিনি। এতে স্থানীয় চাষিদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা জানতে পারেন ১৩৫ টাকা লিটার বিক্রি করা হচ্ছে। খবর পেয়ে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে। ঘটনাস্থলে আসেন ক্যাম্পের পুলিশ ইনচার্জ রেজাউল করিম। পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ২৫০ লিটার ডিজেল নিয়ে পুলিশের সামনেই সটকে পড়েছন কালু মিয়া। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে কীভাবে তেল ছেড়ে দিলেন এবং আইনী ব্যবস্থা নিলেন না সেসব প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই রেজাউল করিম বলেন, মানুষের ভিড় জেনে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু মাগরিবের নামাজের সময় হয়ে গিয়েছিল তাই কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। অভিযুক্ত দোকানী জজ মিয়ার দাবি, প্রতিবেশী বাজার চুয়াডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া বাজারের পান্নার কাছ থেকে তিনি ডিজেল কিনে এনে বিক্রি করেন। জানা গেছে, তেল মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে সাম্প্রতিক সময়ে এই পান্নাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে এ অর্থদণ্ড আদায়ের পাশাপাশি মজুদকৃত তেল সরকারি দামে বিক্রি করে দেন। তবুও থামেনি পান্নার মজুদ কার্যক্রম। জজ মিয়ার মত দোকানীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি তেল। এদিকে অবৈধ তেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যেকোন মজুদদারীর বিষয়ে সকলের আরও বেশি সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More