বিএডিসিতে বড় জালিয়াতি : কৃষকের কপাল পুড়িয়ে ভারতীয় পুরাতন বীজে মোড়কজাত

সরকারি পাটবীজের বিরাট ঘাপলা : ফেরত এলো প্রায় ২০ মেট্রিক টন 

স্টাফ রিপোর্টার: কৃষি প্রণোদনার আওতায় চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ এবং ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রির জন্য দেয়া প্রায় ২০ মেট্রিক টন পাট বীজ ফেরত দিল বিএডিসি ফরিদপুর বিপণন কার্যালয়। বিএডিসির কুষ্টিয়া পাট বীজ জোনের আওতায় বীজগুলো সরবরাহে পর নিম্নমান হিসেবে চিহ্নিত হয়। অভিযোগ রয়েছে মেহেরপুরের গাংনী পাট বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে ভারতীয় পুরাতন বীজ নতুন মোড়কে প্যাকেটজাত করে সরবরাহ করা হয়েছিলো। জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ফরিদপুর জেলার বিপণন কার্যালয়ে সরকারি নীতিমালা অনুসারে পাট বীজ প্রেরণ করে কুষ্টিয়া পাট বীজ জোন থেকে। এর মধ্যে ফরিদপুর জেলার বিএডিসি ডিলার পর্যায় বিক্রির জন্য জেআরও-৫২৫ জাতের মানঘোষিত বীজ ১৫ মেট্রিক টন এবং সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকের জন্য বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে বিজেআরআই তোষা পাট-৯ প্রত্যয়িত বীজ ৯.৪৬০ মেট্রিক টন বীজ ছিল। এসব বীজের অঙ্কুরোদম ক্ষমতা (বীজ গজানোর ক্ষমতা) কাক্সিক্ষত মাত্রায় পাইনি বিএডিসি ফরিদপুর বিপণন। ফলে ডিলার পর্যায়ে বিক্রি এবং কৃষি প্রণোদনায় চাষীদের মাঝে বিতরণ করা ঠিক হবে বলে প্রতীয়মান হয়। তাই বীজগুলো ফেরত পাঠিয়ে দেয় ফরিদপুর বিপণন কার্যালয়। বিএডিসি পাট উৎপাদনকারী চাষীদের অভিযোগ, চাষীরা এবার উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ বীজ উৎপাদন করলেও কর্তৃপক্ষ সামান্য পরিমাণ বীজ ক্রয় করেছে। অল্প দামে বাইরের ব্যাপারির কাছে বীজ বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পাট বীজ চাষী জানান, পাটবীজ উৎপাদন কুষ্টিয়া জোনের কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার চাষীদের কাছ থেকে কাক্সিক্ষত পরিমাণ বীজ কেনা হয়নি। সামান্য কিছু বীজ কিনে দায় সারা হয়েছে। এই বীজের সাথে ভারতীয় পুরাতন বীজ মিশোনা হয়। গাংনীর চিৎলা পাট বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে এসব বীজ প্যাকেটজাত করে সরবরাহ করা হয়। মানহীন এসব বীজ যারাই পাবে তারা মাঠে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে। অভিযোগ রয়েছে, পাটবীজ জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ও রুবেল হোসেন এ অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ত। কৃষকের কাছ থেকে ভাল বীজ কিনে সরবরাহের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের মাধ্যমেই এই অনিয়ম হয়েছে। যা পাট বীজ সেক্টরের জন্য বড় অশনি সংকেত বলে মনে করছেন ভ্ক্তুভোগী চাষীরা। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে ইকবাল হোসেন জানান, তিনি এই দায়িত্বে নেই। অন্যদিকে রুবেলে হোসেনের মোবাইলে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More